‘শেষটা খুব কাছে চলে এসেছে’ জেকোর

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

আসন্ন বিশ্বকাপের এবারের আসরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচের মতো যে কয়েকজন চল্লিশোর্ধ্ব ফুটবলার মাঠ কাঁপাতে যাচ্ছেন, এডিন জেকোও তাদের একজন। বয়স বিবেচনায় স্বাভাবিকভাবেই এটি তার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। এমনকি নিজের ক্যারিয়ারের শেষটাও যেন এখানেই দেখছেন বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার অধিনায়ক জেকো। তবে বিদায়ের ঘণ্টা বাজার আগে তার সামনে এখন বড় দায়িত্ব; দেশের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেকো শুনিয়েছেন তার এই দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতার নেপথ্যের গল্প। সেখানে শুরুতেই ক্যারিয়ারের সমাপ্তি প্রসঙ্গে জেকো বলেন, ‘সবারই একটা শেষ থাকে, হয়তো আমারও সেটা খুব কাছে চলে এসেছে।’

১৭-১৮ বছর বয়সের স্মৃতি হাতড়ে জেকো বলেন, ‘আমি যখন তরুণ ছিলাম, মানুষ আমাকে বলত; অভিজ্ঞতা হলো এমন কিছু যা বহু বছর খেলার পর অর্জিত হয়। তখন একজন ১৭ বছরের কিশোরের মতোই ভাবতাম। কিন্তু এই বয়সে এসে বুঝতে পারছি, ফুটবলে অভিজ্ঞতাই আসল ভিত্তি।’

ক্যারিয়ারের শুরুতে সারায়েভো-ভিত্তিক ক্লাব জেলিয়েজনিচার থেকে যখন চেক প্রজাতন্ত্রের ক্লাব তেপ্লিৎসেতে যোগ দেন, তখন খুব কম মানুষই ভেবেছিল যে এই তরুণ ইউরোপের শীর্ষ লিগ ও বড় বড় মঞ্চ মাতাবেন। সেসব ছাড়িয়ে এই জেকোই পেশাদার ক্যারিয়ারে ইতিমধ্যেই পার করে ফেলেছেন দুই দশকেরও বেশি সময়।

তবে নিজের এমন দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং ৪০ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ স্তরে খেলার কোনো পরিকল্পনা ১০ বছর আগেও জেকোর ছিল না। তবে লম্বা সময় ধরে ফিটনেস ধরে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এখন আমার শরীরের কথা শুনি এবং অনুশীলনের আগে ও পরে শরীরকে সাহায্য করতে অনেক খাটতে হয়। কারণ আমি তো আর তরুণ নই, আমার পা ও শরীরের যতœ নেওয়া প্রয়োজন।’

গত গ্রীষ্মে ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্তিনায় ছয় মাসের গোলখরা কাটানোর পর, জানুয়ারিতে জার্মান ক্লাব শালকেতে যোগ দেন জেকো। এর আগে ভলফসবুর্গ, ম্যানচেস্টার সিটি, রোমা, ইন্টার মিলান ও ফেনারবাচে মাতানো এই স্ট্রাইকার শালকের হয়ে অভিষেক ম্যাচের ২০ মিনিটেই গোল করেন। তার মোট ৬টি গোল শালকেকে তিন বছর পর বুন্দেসলিগায় ফিরিয়ে আনতে বেশ ভালোভাবেই সাহায্য করেছে। সেই ছন্দ জেকো ধরে রেখেছিলেন বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও। কার্ডিফে ওয়েলসের বিপক্ষে জেকোর হেড থেকে করা সমতাসূচক গোলটিই বসনিয়াকে বিশ্বকাপের মূল পর্বের পথ দেখায়। ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকা ওয়েলশ কর্মকর্তার কাছে অবশ্য মজার ছলে দুঃখ প্রকাশ করে বুড়ো আঙুল উঁচিয়ে দুঃখিত বলতেও ভুলেননি জেকো।

প্লে-অফের ফাইনালে ইতালিকে পেনাল্টিতে হারিয়ে মূল পর্ব নিশ্চিত করে বসনিয়া। তবে ইতালির টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার খবরের আড়ালে বসনিয়ার কৃতিত্ব ঢাকা পড়ে যাওয়া নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ করেছিলেন জেকো। সেই প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘সবাই আমাদের স্টেডিয়াম কতটা ছোট বা ইতালির টানা তিনবার বাদ পড়া নিয়ে কথা বলছিল। আমাদের দলটা যে কতটা চমৎকার এবং দলে কত প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে যারা ইতালির বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করেছে, তা নিয়ে প্রায় কেউই আলোচনা করেনি।’

নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপের আসর সামনে রেখে ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের স্মৃতিও ফেরালেন জেকো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মারাকানায় ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল তার। সেখানে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জেকোর একটি গোল বাতিল হওয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল বসনিয়াকে। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন এই বর্ষীয়ান তারকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত