ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটেছে এবং তেহরান আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে রাজি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই একতরফা দাবিকে অস্বীকার করেছে ইরান, যার ফলে যুদ্ধ বন্ধের এই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র‌্যালিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না আপনারা শুনেছেন কি না, তবে আমরা আজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করেছি। তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না বলে সম্মত হয়েছে, আর এটাই ছিল আমাদের প্রধান শর্ত।’

একই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছি। আমরা একটি চমৎকার চুক্তি করেছি। সেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। খুব শিগগিরই মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে। প্রায় সবকিছুই সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমরা যা চেয়েছিলাম, সবই অর্জন করেছি।’

তবে ট্রাম্পের আশাবাদী বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত দাবি’ উত্থাপনের অভিযোগ করেন এবং বলেন, ‘আলোচনার সময় ওয়াশিংটন নতুন নতুন শর্ত যুক্ত করছে।’

এর আগে দিনের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় পরিকল্পিত নতুন বিমান হামলা স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহান্তেই ইউরোপে এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তিনি বলেন, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

ট্রাম্প আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত