বিশ্বকাপ উন্মাদনায় গোপালগঞ্জ

ব্রাজিল মোড়ে মেসির ১৬ ফুটের ভাস্কর্য

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২৩তম বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বজুড়ে। সেই উন্মাদনা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গোপালগঞ্জও। প্রিয় দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে জেলার গ্রামাঞ্চলে এখন বইছে উৎসবের আমেজ।

প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে নানা আয়োজন ও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় শোভা পাচ্ছে রঙিন পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। কোথাও কোথাও আয়োজন করা হচ্ছে একসঙ্গে খেলা দেখার ব্যবস্থাও। গ্রামে গ্রামে ফুটে উঠেছে ব্যতিক্রমী সব আয়োজন, যা এলাকাজুড়ে তৈরি করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের টুকুবাজার এলাকায় ব্রাজিল সমর্থকরা ১২টি খুঁটির ওপর ব্রাজিলের পতাকা, একটি বাংলাদেশের পতাকা এবং একটি দীর্ঘাকৃতির ব্রাজিলের পতাকা টাঙিয়ে এলাকার একটি মোড়ের নাম দিয়েছেন ‘ব্রাজিল মোড়’। স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে এখানে একসঙ্গে খেলা দেখা, গোল উদযাপন ও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ব্রাজিল মোড় নাম করনের অন্যতম উদ্যোক্তা রিফাত খাকি বলেন, ফুটবল তাদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। আমরা তাই প্রিয় দল ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতে ১৩টি পতাকা টাঙ্গানোর পাশাপাশি ৫০ ফুট দীর্ঘ এই পতাকা দিয়ে ব্রাজিল মোড় নাম দিয়েছি। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল জিতবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

আরেকজন ব্রাজিল সমর্থক বর্ণ রহমান বলেন, এই মোড় আমাদের গর্ব। আমরা একসঙ্গে খেলা দেখব, আনন্দ ভাগাভাগি করব।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক মো. নাজমুল শেখ বলেন, তারা ব্রাজিল মোড় নাম দিলেও আমরা কোন অংশে পিছিয়ে নেই। তিনি জানান আমরা রাতইল  ইউনিয়নের রাতইল পশ্চিম চরপাড়া গ্রামে আর্জেন্টিনা সমর্থনে প্রায় ১ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙিয়ে নিজেদের সমর্থনের জানান দিয়েছেন। 

এদিকে মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ভাস্কর্য। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাশ্রমে কাদা-মাটি দিয়ে নির্মিত এই ভাস্কর্য তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।
 
স্থানীয়রা জানান, এলাকার চারজন তরুণ, অলক বিশ্বাস, বাদল মণ্ডল ও সজীব বিশ্বাস গত ২২ মে থেকে বাঁশ, কাঠ, ছন ও মাটি দিয়ে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু করেন।
 
মেসির ভাস্কর্যের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রভাষ দাস বলেন, মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি কোটি ভক্তের আবেগের নাম। তার প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমরা এই ভাস্কর্য নির্মাণ করছি। ভাস্কর্যের সামনে বসে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকেরাও বসে নেই। বহুগ্রাম বাজার এলাকায় তারা স্থাপন করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের বিশাল প্রতিকৃতি। পাশাপাশি বাজারজুড়ে টানানো হয়েছে প্রায় ৩৬০ ফুট দীর্ঘ ব্রাজিলের পতাকা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও বর্ণিল করতেই এমন আয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

ব্রাজিল সমর্থক সুধাংশু মজুমদার বলেন, ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতে আমরা ৩৬০ ফুট দীর্ঘ পতাকা টানিয়েছি। নেইমারের প্রতিকৃতিও তৈরি করেছি। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসব দেখতে আসছেন, যা আমাদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এলাকাজুড়ে শুধু আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নয়, দেখা গেছে জার্মানি ও স্পেনের সমর্থকদেরও সরব উপস্থিতি। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উড়ছে এসব দেশের পতাকা। 

শুধু পতাকা কিংবা ভাস্কর্য নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয় ফুটবলপ্রেমীদের আয়োজন। কোথাও ‘ব্রাজিল মোড়’, কোথাও মেসির বিশাল ভাস্কর্য সব মিলিয়ে বিশ্বকাপকে ঘিরে গোপালগঞ্জের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ক্রমেই বাড়ছে উৎসবের আমেজ, আর প্রিয় দলকে ঘিরে রঙিন হয়ে উঠছে স্বপ্নের জগৎ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত