ডাগআউটে দুই আর্জেন্টাইনের লড়াই

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

ফুটবল মহোৎসবে সাকালে মুখোমুখি হচ্ছে সহ-স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে; যেখানে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি লাইমলাইটে থাকবে ডাগআউটের দুই আর্জেন্টাইন মাস্টারের রণকৌশল। লস অ্যাঞ্জেলেসে স্টেডিয়ামে এ ম্যাচটি মূলত দুই ভিন্ন দর্শনের এক ক্ল্যাসিক লড়াই।

একদিকে দীর্ঘ দেড় বছরের কঠোর পরিকল্পনা, আধুনিক ফুটবলীয় ইমেজ এবং সামাজিক  মাধ্যমের চাপ সামলে মার্কিনদের শীর্ষ স্তরে নিয়ে যাওয়া কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। অন্যদিকে ১৬ বছর পর প্যারাগুয়েকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে এনে দলটির হারানো লাতিন ফুটবল ‘ডিএনএ’ পুনরুদ্ধার করা অভিজ্ঞ মাস্টারমাইন্ড গুস্তাভো আলফারো।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এ দুদলের মুখোমুখি হওয়া মানেই ইতিহাসের পাতায় ফিরে যাওয়া। ফুটবল ইতিহাসে ৯৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয়বারের মতো দেখা হতে যাচ্ছে এ দুই দেশের। এর আগে ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে তারা একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল। তবে সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দল দুটি এ পর্যন্ত ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে; যার মধ্যে ৫ ম্যাচ জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ২টি জিতেছে প্যারাগুয়ে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ দেখায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরের এক প্রীতি ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিলেন মার্কিনিরা।

ঘরের মাঠে খেলা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী যুক্তরাষ্ট্রের কোচ পচেত্তিনো। আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তন ও খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে নিজের খোলামেলা ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গত দেড় বছর ধরে দলের কৌশল, শারীরিক কন্ডিশনিং এবং মানসিক শক্তি নিয়ে কাজ করেছি। আটলান্টা, নিউইয়র্ক এবং শার্লটের মতো ভেন্যুগুলোতে ভক্তদের যে অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখেছি, তা আমাদের ভেতর নতুন শক্তি জুগিয়েছে।’ সঙ্গে পুলিসিচের ফর্মে ফেরা ও চেনা কন্ডিশন তাকে আলাদাভাবে সাহস দিচ্ছে।

তবে প্যারাগুয়ে তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলবে এমনটাও মানছেন পচেত্তিনো। কেননা, বাছাইপর্বে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাদের হারিয়ে বিশ্বকাপে পাড়ি জমিয়েছে তারা। ‘আমি তাদের মানসিকতা, আগ্রাসী মনোভাব এবং লড়াকু ঘরানা সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানি। এ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে প্যারাগুয়ে দেখিয়েছে, তাদের বিপক্ষে খেলা কতটা কঠিন এবং তারা কতটা ভালো খেলে। তারা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারিয়েছে।’

স্বাগতিকদের ঘরের মাঠের সুবিধা এবং ইউরোপে খেলা তারকাদের শক্তিকে সমীহ করলেও লড়াই ছাড়তে নারাজ প্যারাগুয়ের কোচ আলফারো, ‘আমার চোখে ছেলেরা অলরেডি বিশেষ কিছু অর্জন করে ফেলেছে। যখন কোনো আশা ছিল না, তখন তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে কোয়ালিফাই করেছে এবং দেশের মানুষকে আবার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করেছে।’

তবে কেবল অংশগ্রহণেই সন্তুষ্ট নন আলফারো, স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমরা এখানে শুধু সংখ্যা বাড়াতে বা উৎসব করতে আসিনি; আমরা এখানে প্রতিটি ইঞ্চির জন্য লড়াই করতে এসেছি। স্বাগতিকদের মোকাবিলা করা কঠিন। তবে সঠিক মনোযোগ ও ডিসিপ্লিন ধরে রাখলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত