মেক্সিকোর দুই নায়কের ভিন্ন জীবন গল্প

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী দিনেই ঘরের মাঠে মেক্সিকোর উৎসবের উপলক্ষ এনে দিলেন দুই ভিন্ন রূপকথার নায়ক। কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত হুলিয়ান কিনোনিয়োস এবং জীবনের কঠিনতম চোট জয় করে ফেরা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেজ। ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে রেকর্ড ৮০,৮২৪ জন দর্শকের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ‘এল ত্রি’রা। ৩টি লাল কার্ডের নাটকীয়তায় ভরা এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্বাগতিকদের জয়ের গল্পটি মূলত দুই ফরওয়ার্ডের জীবনের কঠিন লড়াই ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটেই মেক্সিকোকে প্রথম উল্লাসের উপলক্ষ এনে দেন ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার কিনোনিয়োস। কলম্বিয়ার সহিংসতাপূর্ণ অঞ্চলে জন্ম নেওয়া কিনোনিয়োস শৈশবে ফুটবলকে জীবনের বাঁচার অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মেক্সিকোর ঘরোয়া ফুটবলে তারকাখ্যাতি পাওয়া এই ফরোয়ার্ড অন্য দেশের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বেছে নেন মেক্সিকোর নাগরিকত্ব। সদ্যসমাপ্ত সৌদি প্রো-লিগে রোনালদোকে পেছন ফেলে সর্বোচ্চ গোলদাতা কিনোনিয়োস বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই মেক্সিকোর হয়ে প্রথম গোলটি করেন। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত কিনোনিয়োস বলেন, ‘এমন এক ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে অসাধারণ সব সমর্থকদের সামনে বিশ্বকাপের প্রথম গোল করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা সবাই এক হয়ে খেলে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিতে পেরেছি।’

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করা দ্বিতীয় গোলটি আসে ৩৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকার জিমেনেজের মাথা থেকে। গোল করার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বর্ষীয়ান ফুটবলার। ২০২০ সালে উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে খেলার সময় মাথার খুলি ফেটে যাওয়ার মতো এক ভয়াবহ চোটে পড়েছিলেন তিনি, যেখানে জীবন বাঁচানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এরপর থেকে সুরক্ষামূলক হেডগিয়ার পরে খেলে যাওয়া জিমেনেজ অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেলেন। এটি ১২৭ ম্যাচে ৪৬তম আন্তর্জাতিক গোল, যার মাধ্যমে তিনি মেক্সিকোর ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কিংবদন্তি জ্যারেড বোর্গেত্তির রেকর্ড স্পর্শ করলেন। কয়েক মাস আগে বাবাকে হারানো জিমেনেজের এই পারফরম্যান্স দেখে কোচ হাভিয়ের আগুয়্যার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘রাউল সবসময় অন্যের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকত, কিন্তু আজ ও নিজের যোগ্যতায় শুরুর একাদশে জায়গা করে নিয়ে ম্যাচ জিতিয়েছে। এটি ওর জন্য দারুণ একটি দিন।’

ম্যাচ যত গড়িয়েছে, মাঠের উত্তেজনা ততটাই রূপ নিয়েছে বিতর্কে। মেক্সিকান ডিফেন্সের তোড়ে খেই হারিয়ে অতিরিক্ত ফাউল এবং তর্কের জেরে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ফুটবলার স্ফেফেলো সিথোল এবং থেম্বা জোয়ানে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আফ্রিকানরা ৯ জনের দলে পরিণত হয়। তবে নাটকের বাকি ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। ইনজুরি টাইমে অতিরিক্ত আগ্রাসী ফাউল করার অপরাধে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্তেসকেও লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে দুই দল মিলিয়ে মোট ৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ডের শাস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশা ভুলে, এবার ঘরের মাঠে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘গ্রুপ এ’-র শীর্ষে উঠে নিজেদের নতুন ফুটবল অধ্যায়ের সূচনা করল মেক্সিকো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত