প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। এ জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সমন্বিত প্রয়াস এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সিএ ভবনে আয়োজিত আইসিএবি ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর ওপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভাবনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। আইসিএবির প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন মূল বক্তব্য তুলে ধরেন। আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য এবং ট্যাক্সেশন অ্যান্ড করপোরেট ল’স কমিটির চেয়ারম্যান এম বি এম লুৎফুল হাদীর সঞ্চালনায় সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রোকোনুজ্জামান, কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আইসিএবির বিশ্লেষণে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো নানা ধরনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘœ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি তৈরি করেছে, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই অবস্থাতেও সরকার ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়েছে, যা বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশে পৌঁছার যাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নের পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে অর্থায়ন করা হবে। এটি বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সহজলভ্যতাকে সীমিত করতে পারে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিএবি।
আইসিএবির প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন বলেন, সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, কর নেট সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর প্রশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। এনবিআর এবং আইসিএবির যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থা কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখছে এবং আগামী দিনেও অধিকতর অবদান রাখবে।
তিনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আইসিএবি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে আয়কর আইন, ২০২৩; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬; কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধির ওপর বিস্তারিত সুপারিশ প্রেরণ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে আইসিএবির বেশ কিছু সুপারিশ প্রতিফলিত হয়েছে। এর ফলে কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে।