চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ আস্করিয়া সড়কে ১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে কাজ চলমান নির্দিষ্ট মেয়াদে শেষ হয়নি। একবছর মেয়াদ বাড়ানো হলে তাতেও কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান এলাকার জনগণ। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শুরু হওয়া ৩কিলো ৫০০ মিটার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজে একবছর মেয়াদ ধরা হলেও সড়কের ইলেকট্রিক খাম্বা ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনার কারণে কাজ করতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান, পৌরসভার দায়িত্বরত প্রকৌশলী মো. আরাফাত। এ কাজে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও যথাসময়ে কাজ করতে না পারায় একবছর সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এখনো আস্করিয়া সড়কে ও উত্তর জলদী বড়–য়া পাড়ি বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গিয়ে সমস্যার কারণে কাজ করতে না পারায় আরো এক বছর সময় বাড়ানোর পর নতুন বেঁধে সময় অনুসারে চলতি বছরের ১৪ জুলাই কাজের মেয়াদ শেষ হলেও সে সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সন্দিহান সাধারণ জনগণ!
এদিকে চলমান কাজে সঠিক তদারকি না করা, নিন্ম মানের সামগ্রী নিয়ে কাজ নিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান কাজের অনিয়মের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছ। তাদের অভিযোগ, কাজ চলাকালীন সঠিক তদারকি না করা, মাঠ পর্যায়ের শ্রমিকেরা নিজের মত করে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে।
বাঁশখালী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, থানার উত্তর পাশ হয়ে দীর্ঘ ৩ কিলো ৫০০ মিটার পৌরসভা আস্করিয়া সড়ক হয়ে জলদী বড়ুয়া সড়কটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়। ১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে টেন্ডারে কাজ টি পেয়েছিল ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
একবছর মেয়াদের এ কাজটি শেষ না হওয়া এবং ভোগান্তি বাড়াতে তৎকালীন প্রশাসক ও পৌরসভার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সড়কটির চলমান কাজ পরিদর্শক পূর্বক দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিলেও তাতে কোন সুফল আসেনি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পরিমাণ জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পায়ে হেঁটে চলা ও দুষ্কর হয়ে পড়ে। অথচ এ সড়কে স্কুল কলেজ, সরলের কাহারঘোনা, মিনজীরিতলা গামী সহ নানা শ্রেণির প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে।
বাঁশখালী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে ঠিকাদারেরা ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। বৃষ্টি কমে গেলে পুনরায় সড়কটির কাজ শুরু করা হবে। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা জানালে তিনি বলেন, ড্রেনের কাজে বিভিন্ন জটিলতার কারণে ঠিকাদার পুরোদমে কাজ করতে পারেনি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
আস্করিয়ার বাসিন্দা আশেক এলাহী বলেন, দীর্ঘ সময়ে চলমান এ কাজে ভোগান্তির কোন শেষ নেই। পৌর এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা ও গর্তের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। কাজটি দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য বাঁশখালীর উপজেলা সদরের জলদী ইউনিয়নকে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ১৫ই জানুয়ারি প্রথম পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম হোছাইনী। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ৫ মে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথম পৌর মেয়র নির্বাচিত হন কামরুল ইসলাম হোছাইনী। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১৮ই জানুয়ারি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন শেখ ফখরুদ্দিন চৌধুরী। তৃতীয় নির্বাচনে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি বাঁশখালী পৌরসভার চতুর্থবারের মত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন এ্যাডভোকেট এসএম তোফায়েল বিন হোছাইন। তিনি দায়িত্ব পালন কালে বিগত ৫ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সে পদে প্রথমে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পরবর্তীতে বাঁশখালীতে দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করলে ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়ে।
এদিকে বাঁশখালী পৌরসভা সি গ্রেড থেকে এ গ্রেডে উন্নীত ও পৌর এলাকায় আশানুরূপ উন্নয়ন না হলেও পৌরসভা হওয়ার পর পৌর এলাকার জায়গা জমির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে আশাতীত !
১০ অঞ্চলের নদীবন্দরে এক নম্বর সংকেত
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার