দক্ষিণ লেবাননের ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সম্ভাব্য সামরিক হামলার আগে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (১৩ জুন) দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার আগে ও পরে ইসরায়েলি বাহিনী ২০টিরও বেশি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সতর্কবার্তার আওতায় দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহও ছিল।
ইসরায়েলি বাহিনীর আরবি ভাষার বার্তার মুখপাত্র আভিখাই আদরাঈ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বাসিন্দাদের দ্রুত ঘরবাড়ি ত্যাগ করে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও তৎপরতার কারণে এসব এলাকায় অভিযান চালানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, সতর্কবার্তা জারির পরপরই রিহান, সুজুদ, কাফর হুনেহসহ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের আশপাশেও বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী একাধিকবার বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। কয়েকদিন আগেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিমান হামলা চালায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও লেবাননে সামরিক অভিযান থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির এবং নতুন করে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে গেছে।