সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে এক সপ্তাহে প্রায় ৮ হাজার শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, গত ৪ থেকে ১০ জুন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার যৌথ অভিযানে ৭ হাজার ৯৮৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই অভিযানে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ হাজার ৮৯৯ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩ হাজার ৮৪ জনের সীমান্ত নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং ১ হাজার ৭৪২ জন শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, অভিযানকালে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ১ হাজার ৪১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়া এবং ৪৩ শতাংশ ইয়েমেনের নাগরিক। এছাড়া আরও ৩৪ জনকে অবৈধভাবে দেশ ত্যাগের চেষ্টার সময় আটক করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, গত এক সপ্তাহে ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহের জন্য ১৪ হাজার ২৬৮ জনকে তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ সময়ে আরও ১ হাজার ২৪০ জন দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ট্রাভেল পারমিট সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, অভিযানে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় প্রদান বা নিয়োগ দিয়ে আইন লঙ্ঘনে সহায়তা করার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, সৌদিতে বর্তমানে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কেউ যদি অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তা করতে গিয়ে ধরা পড়ে তাহলে তার তার ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা হতে পারে। যা বাংলাদেশি টাকায় তিন কোটি টাকার বেশি। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ