বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন

স্বেচ্ছা রক্তদাতারা মূলত সৎকর্মেরই চর্চা করছেন: জাবি উপাচার্য

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

স্বেচ্ছায় যারা রক্ত দান করছেন তারা শুধু পারস্পরিক উপলব্ধি নয়, সৎ গুণেরই চর্চা করছেন। তাদের পক্ষে অসৎ চর্চা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিইবি মিলনায়তনে কোয়ান্টাম আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা-গ্রহীতা মিলনমেলা ও তরুণ রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছা রক্তদাতারা তাদের সৎকর্মের এ চর্চাকে অভ্যাসে পরিণত করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য। 

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তরুণ আট শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কৃতজ্ঞতা ও সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক এম রেজাউল হাসান।

অনুষ্ঠানে ‘ও’ পজেটিভ গ্রুপের ৫৭ বারের স্বেচ্ছা রক্তদাতা দৌলত আল রশিদ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নিয়মিত রক্তগ্রহীতা রকিবুল ইসলাম রুশো তাদের আবেগঘন অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন।

স্বাগত বক্তব্যে স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক এম রেজাউল হাসান বলেন,  প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোয়ান্টাম ব্লাড ব্যাংক এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখ রক্ত বা রক্ত উপাদান সরবরাহ করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত রক্তদানের মাধ্যমে। বক্তব্যে রক্তদাতাদের এ অবদানের কথা স্বীকার করে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

এর আগে বিকেল থেকেই স্বেচ্ছা রক্তদাতা ও গ্রহীতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। দাতা-গ্রহীতা একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া, ছোট ছোট গেমস আর আনন্দময় পরিবেশে ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয়। যেখানে রক্তগ্রহীতা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা এত সংখ্যক স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

স্বেচ্ছা রক্তদাতারাও রক্তগ্রহীতাদের মহৎ এ সেবা দিতে পেরে অপার্থিব আনন্দের কথা শেয়ার করেন। বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে স্বেচ্ছা রক্তদাতা বিশেষ করে তরুণ দাতাদের এই উদ্বুদ্ধায়ন আরো অসংখ্য নতুন দাতা তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত