ফেনীতে বাঁধ সংস্কার, নদী পুনঃখনন, ড্যাম নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে 

একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা অনুমোদন

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে বহুল আলোচিত 'মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)'। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ের  মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন তারেক রহমান।

পরিকল্পনা কমিশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীঘেরা ফেনী জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে লাখো মানুষ দুর্ভোগের শিকার। বিশেষ করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আসে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বন্যায় ফেনীর বিভিন্ন নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন নদীর বাঁধ ও তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে প্রতি বছর অতিভারি বর্ষণ ও উজানে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পানিতে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও তীর শক্তিশালী করা এবং মুহুরী ও কহুয়া নদীতে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে প্রকল্প এলাকায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদীভাঙন রোধ, জনসম্পদ রক্ষায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এটি ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনে কাজ শেষ হবে। প্রকল্প এলাকা ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় মুহুরী ও কহুয়া নদীর বিভিন্ন অংশে বিদ্যমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অন্যান্য পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী সদর, ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদীভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প অনুমোদন পেলে জেলার পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘২০২৪ সালের বন্যায় ফেনীর নদীগুলোর বাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় বাঁধের অবস্থা দুর্বল। বাঁধ ও তীরগুলো শক্তিশালী করতে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ সংস্কার, নদী পুনঃখনন, এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে। এটি প্রকল্পের প্রথম ফেস-১-এর প্রথম ধাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া নদী সেচ ব্যবস্থা এ অঞ্চলের কৃষিতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং বন্যায় জনসম্পদ রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’

একনেকের সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি বিশেষ প্রকল্প রয়েছে, যা হলো ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) প্রকল্প, করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প এবং পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পটিও আজকের সভায় অনুমোদন পায়।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার ৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত এসব প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত