কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দেয়া পোস্টে লাইক দেয়া মাদরাসাছাত্রকে মারধর

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নে ‘টিআর-২৬’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে এক মাদ্রাসাছাত্রকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম মারুফ সোনাগাজী উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর এলাকার জাফর উল্লাহর ছেলে এবং লক্ষ্মীপুর রহমানিয়া মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র।

এ ঘটনায় রবিবার (১৪ জুন) মারুফের বাবা জাফর উল্লাহ বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় এজাহার করেন।

এজাহারে আসামিরা হলেন কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য রামচন্দ্রপুর এলাকার অনয় পাটোয়ারী (১৭), মো.  স্বপ্নীল (১৬), উত্তর মঙ্গলকান্দি এলাকার তুরান (১৫), রাজাপুর এলাকার রাহুল (১৬), মির্জাপুর এলাকার হাবিব খোন্দকার ওরফে শিহাব (২৫), শরীফ চৌধুরী মুন্না ওরফে ছোট মুন্নাসহ (২০)।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, অভিযুক্তরা মঙ্গলকান্দি এলাকার ‘টিআর-২৬’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। কয়েক মাস আগে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি হলে ওই পোস্টে মারুফ লাইক দিলে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পরে গত ৩০ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে মারুফ বক্তারমুন্সী মোয়াজ্জেম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলা দেখতে যাওয়ার পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তার পথরোধ করে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে বক্তারমুন্সী এলাকার তাকিয়া রোডের পাশে একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। যার একটি ভিডিও শনিবার (১৩ জুন) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে সেটি ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কিশোর মিলে একজন শিক্ষার্থীকে ঘিরে ধরে কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে। ওই শিক্ষার্থী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে তাকে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে মামলা অথবা কাউকে অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাই ভয়ে মারুফ বিষয়টি পরিবারকে জানায়নি এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল হাসেম বলেন, ভিডিও ভাইরালের পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত