পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী ও বাবা থানায় 

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

যশোরের মনিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচ মাসের অন্ত:সত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পৌর শহরের মোহনপুর ওয়াবদা মোড় এলাকায় তার বাবার বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ঘর থেকে ময়নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, মৃত ময়না মোহনপুর এলাকার মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে। গত আট বছর আগে উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের সাথে তার বিয়ে হয় এবং তাদের চার বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে চার-পাঁচ দিন আগে ময়না বাবার বাড়িতে এসেছিলেন।

এর আগে ময়নার বাবার মৃত্যুর পর তার মা তাহেরা বেগম দ্বিতীয় বিবাহ করেন। তার বর্তমান স্বামী রফিকুল ইসলাম। যিনি ঘটনার রাতে বাড়িতেই ছিলেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃত ময়নার স্বামী হেলাল উদ্দিন ও সৎবাবা রফিকুল ইসলামকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

নিহতের বোন মারুফা জানান, হেলাল উদ্দিনের এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রায়ই তিনি ময়নাকে নির্যাতন করতেন। চার-পাঁচ দিন আগে হেলাল নিজেই ময়নাকে তার মায়ের বাড়িতে রেখে যান। শুক্রবার তাকে আবার শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। 

তিনি আরও বলেন, ঘটনার রাতে মা ঘরে এবং ময়না বারান্দায় ঘুমিয়েছিল। ভোরে নামাজ পড়তে উঠে মা দেখেন তার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ এবং ময়নার কোন সাঁড়া না পেয়ে আমার ভাই সাইফুল্লাহকে ডাকা হয়। পরে সে এসে দরজা খুলে ময়নাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পর মা ময়লা ফেলতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরের ভেতরে ময়নাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।

মারুফার দাবি, হেলাল উদ্দিন সম্প্রতি আরেকটি বিয়ে করেছেন এবং পরিকল্পিতভাবে ময়নাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। 

মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, তাসলিমার মৃত্যু রহস্যজনক। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। 

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, এবং তার স্বামী ও সৎ বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়না তদন্তের পর জানা যাবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত