ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে হালকা বাতাসেই চলে যায় বিদ্যুৎ। অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিভ্রাটে (লোডশেডিং) বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভুতুরে বিদ্যুৎ বিলে বিরক্ত গ্রাহকরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ক্ষোভের ঝড়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য বাতাস কিংবা হালকা বৃষ্টিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের গরমিলের নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু এই ভুতুড়ে বিল ও অনিয়ম বন্ধে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি অসংখ্য ভুক্তভোগী।
এ দিকে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের বিদ্যুৎ বিতরণের একটি সাব-স্টেশন ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায়।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ‘বিদ্যুতের ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের মিল না থাকা। মনগড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসায় হতাশ হয়ে পড়েছেন উপজেলার মাইজবাগ, জাটিয়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা। বিল সংশোধন করতে গেলেও পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। সময়ের বিল সময়ে না করে মিটার রিডিং না দেখেই বিল করছে মিটার রিডার। এ ছাড়া গ্রাহকদের থেকে বাড়তি সুবিধাও নেন রিডাররা। ফলে বছরের পর বছর এমন ভুতুড়ে বিল দিচ্ছে তারা।’
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ নম্বরে যোগাযোগ করলেও সাধারণ গ্রাহকদের ফোন ধরেন না তারা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। আর এসব অভিযোগ শোনার মতো কেউ নেই।
মাইজবাগ ইউনিয়নের সাধরগোলা গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক ওয়ালী উল্লাহ অলি, মো. আসাদ উল্লাহ, জাহিদ হাসানসহ অন্ত্যত আরও ১৫ জন গ্রাহক বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের আওতাধীন প্রায় সব এলাকায় হালকা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ চলে যায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রতি মাসে মনগড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ। মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের কোন মিল নেই। বিল নিয়ে অফিসে গেলে বলে সংশোধন করে দিচ্ছি। বার বার বলার পরেও কোনো কাজে আসছে না।
উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক আজিজুল হাকিম ও নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার অসংখ্য মানুষের বিদ্যুৎ মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কোন মিল নেই।’ তাদের মধ্যে নূরুল ইসলাম জানান, ‘চলতি মাসেই বিদ্যুতের মিটার রিডিংয়ের চেয়ে ৬০ ইউনিট বিল বেশি করেছে।’ এছাড়াও একই এলাকার গ্রামপুলিশ আব্দুস সাত্তারের একটি ফ্যান ও একটি লাইট ব্যবহার করে ৭৫ ইউনিট অতিরিক্ত রিডিং করায় বিল এসেছে ৬৯২ টাকা। এতে নিম্ন আয়ের এসব মানুষ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে পড়েছেন বেকায়দায়। দ্রুত এই ভোগান্তির সমাধান চান গ্রাহকরা।
শুধু পল্লী বিদ্যুতেই নয়, একই ভোগান্তি পিডিবিতেও। ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের পিডিপি বিদ্যুৎ গ্রাহক মোহাম্মদ আলী ও শাহজাহান মিয়াসহ আরও কয়েকজন ভোক্তভোগী জানান, তীব্র লোডশেডিং ও অতিরিক্ত মনগড়া বিদ্যুৎ বিলের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ মানুষ। কবে মিলবে এর প্রতিকার?
এদিকে বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে সামর্থ্যবানরা ঝুঁকছেন আইপিএসের দিকে। অপরদিকে, কৃষকদের আইপিএস কেনার সামর্থ্য নাই। ভোগান্তিই তাদের নিয়তি।
ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম অনিতা বর্ধণ বলেন, ‘আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ পাই, ততটুকুই সাপ্লাই করি।’ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহকের ভোগান্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, ‘সারা দেশেই কমবেশি লোডশেডিং হচ্ছে। ঈশ্বরগঞ্জেও তার ব্যতিক্রম নয়। চাহিদা অনুযায়ী যতটুকু বিদ্যুৎ পাচ্ছি তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে ’ বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যুৎ সাপ্লাই কেন্দ্র ঘেরাও করে ভাঙচুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে ভাঙচুরের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। গতকাল রাতে কয়েকজন লোক বিদ্যুৎ সাপ্লাই কেন্দ্রের সামনে এসে চিৎকার ও উচ্চবাচ্য করেছে শুনেছি।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই