মহাবিশ্বের বিস্ময় : ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সিংগুলারিটি’, যেখানে মহাকর্ষ শক্তি ও ঘনত্ব অসীম। স্থান-কালের সব নিয়ম এখানে ভেঙে পড়ে। তবু শ্বেত গহ্বরকে ‘অবশেষ’ বলা হয়। কারণ
কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল বাষ্পীভবনের পর যা অবশিষ্ট থাকে, এটিই তা। তাত্ত্বিক বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, ব্ল্যাকহোলের অপর প্রান্তটি ‘হোয়াইটহোল’ বা ‘শ্বেতগহ্বর’ হতে পারে, যা আলোকে বাইরের দিকে প্রবল বেগে বের করে। এটি মহাবিশ্ব বা পদার্থবিজ্ঞানের বড় বিস্ময়। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের ব্ল্যাকহোলটির দূরত্ব ১৫ হাজার ৬৬ আলোকবর্ষের মতো। যদি এই দূরত্ব পাড়ি দিয়ে ব্ল্যাকহোলের কাছে যাওয়া যায়, তারপর কী হবে? মানুষের শরীর কি সে ধকল নিতে পারবে? এ প্রশ্নের জবাব দেন, আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির হেইডেন প্ল্যানেটেরিয়ামের জ্যোতির্পদার্থবিদ চার্লস লিউ। তার মতে, ব্ল্যাকহোলে পড়ার সময় শরীর হবে টিউব থেকে বের হওয়া টুথপেস্টের মতো। কোনো বস্তু যখন ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্ত অতিক্রম করবে, তখন বস্তুটি অনুভব করবে প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় টান। যেহেতু বস্তুর সব অংশ ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্র থেকে সমান দূরে থাকবে না, তাই সব অংশের ওপর ব্ল্যাকহোলের আকর্ষণ বল সমান হবে না। ফলে ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি থাকা অংশটা অপেক্ষাকৃত দূরের অংশ থেকে বেশি প্রসারিত হবে।
কৃষ্ণগহ্বরই এক রহস্য। আর শ্বেত গহ্বর (White Hole) হলো স্থান-কালের spacetime) একটি অনুমানমূলক অঞ্চল, যা কৃষ্ণগহ্বরের (Black Hole) সম্পূর্ণ বিপরীত। যেখানে কৃষ্ণগহ্বর সবকিছু নিজের ভেতর টেনে নেয় এবং সেখান থেকে আলোও পালাতে পারে না সেখানে শ্বেতগহ্বর অবিরাম আলো, পদার্থ এবং শক্তি বাইরে উগড়ে দেয়। সহজ কথায়, সময়কে উল্টো দিকে চালালে কৃষ্ণগহ্বরকে যেমন দেখাবে, সেটিই শ্বেতগহ্বর। এটি এত উজ্জ্বল এবং শক্তিশালী যে, এর ভেতর কোনো বস্তু প্রবেশ করতে পারে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও বিস্ময়কর তথ্য সামনে আসবে।