বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগালও উপস্থিত ছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।
সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠনের আহ্বান জানান পাকিস্তানের হাইকমিশনার। আলোচনার একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পাদনে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে।
আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর এবং শিক্ষা খাতে যোগাযোগের বিষয় উঠে আসে। হাইকমিশনার জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্যের বিষয়েও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন হাইকমিশনার। তিনি জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। ইতিমধ্যে ৭৪ জন পাকিস্তানে গমন করেছেন।
বৈঠকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।