মেডিকেল প্রযুক্তিতে এআই, আসছে ফুল-বডি স্ক্যানার

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ছবি তৈরির প্রযুক্তির জন্য পরিচিত মিডজার্নি এবার একেবারেই ভিন্নধর্মী একটি প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি চিকিৎসা যন্ত্র তৈরি করছে, যা মাত্র ৬০ সেকেন্ডে একজন মানুষের পুরো শরীর স্ক্যান করতে সক্ষম হবে।

মিডজার্নির পরিচিত কাজের সঙ্গে এই প্রকল্পের মিল এতটাই কম যে অনেকেই প্রথমে এটিকে এপ্রিল ফুলের রসিকতা বলে মনে করতে পারেন। তবে এটি কোনো রসিকতা নয়। ‘মিডজার্নি স্ক্যানার’ নামে যন্ত্রটি বাস্তবেই তৈরি হচ্ছে, এবং প্রতিষ্ঠানটি এমন স্পা-ও গড়ে তুলছে, যেখানে মানুষ গিয়ে এই স্ক্যানিং সুবিধা নিতে পারবেন।

নিজেদের ঘোষণায় মিডজার্নি স্বীকার করেছে যে প্রকল্পটির সঙ্গে তাদের আগের কোনো কাজের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে ভাবছে। 'আমরা কীভাবে ভিন্ন হতে চাই?' এবং 'আমরা কী হতে চাই?', এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তারা ‘মিডজার্নি মেডিকেল’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্ক্যানারটি হবে এই উদ্যোগের প্রথম হার্ডওয়্যার পণ্য।

মিডজার্নি বলেছে, 'আমরা এমন একটি প্রযুক্তির স্বপ্ন দেখেছি, যা এমআরআইয়ের মতো শক্তিশালী, আবার স্পায় যাওয়ার মতোই সহজ ও স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা দেবে। আজ আমরা সেই লক্ষ্য পূরণের একটি পথ উন্মোচন করছি।'

স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তি একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াবেন। এরপর তাকে প্রতি সেকেন্ডে ২ ইঞ্চি গতিতে পানির মধ্যে নামিয়ে দেওয়া হবে। শরীরটি অতিক্রম করবে একটি বৃত্তাকার রিংয়ের মধ্য দিয়ে, যা প্রায় ৫ লাখ ক্ষুদ্র বর্গাকার ইউনিট দিয়ে তৈরি। প্রতিটি ইউনিটের আকার হবে একটি বালুকণার সমান। এগুলো আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ পাঠাতে এবং শরীর থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসা সংকেত গ্রহণ করতে সক্ষম।

ডলফিনের ইকোলোকেশন ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যপদ্ধতির তুলনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ভাষায়, স্ক্যানের সময় একজন মানুষ যেন চারদিক থেকে ঘিরে থাকা পাঁচ লাখ ক্ষুদ্র ডলফিনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষিত হচ্ছেন।

মিডজার্নির দাবি, এই স্ক্যানের মাধ্যমে শরীরের একটি ত্রিমাত্রিক (৩ডি) মানচিত্র তৈরি হবে, যার সূক্ষ্মতা হবে এক মিলিমিটারেরও ভগ্নাংশ মাত্রায়। দেখতে এটি বর্তমান এমআরআই চিত্রের মতো হলেও গতি হবে প্রায় ১০০ গুণ বেশি। যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ শরীরের এমআরআই করতে সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ মিনিট সময় লাগে, সেখানে মিডজার্নির লক্ষ্য পুরো স্ক্যানিং প্রক্রিয়া ৬০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে সম্পন্ন করা।

ক্রিপ্টো ব্রিফিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, হ্যান্ডহেল্ড আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস নির্মাতা বাটারফ্লাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যৌথভাবে মিডজার্নি এই যন্ত্রটি তৈরি করছে । ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাটারফ্লাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে একটি লাইসেন্সিং চুক্তি স্বাক্ষর করে মিডজার্নি, যার মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠানটির ‘আল্ট্রাসাউন্ড-অন-চিপ’ প্রযুক্তির একচেটিয়া ব্যবহারের অধিকার পায়।

প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিডজার্নির কনজ্যুমার হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান আহমাদ আব্বাস। তিনি ২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি অ্যাপলের ভিশন প্রো প্রকল্পে কাজ করেছিলেন।

আগামী ১২ মাসে মিডজার্নি তাদের অ্যালগরিদম ও স্ক্যানার প্রযুক্তি আরও উন্নত করবে, গবেষণামূলক পরীক্ষা পরিচালনা করবে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের হার্ডওয়্যার নকশা নিয়ে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর সান ফ্রান্সিসকোতে স্ক্যানারসমৃদ্ধ প্রথম স্পা চালু করা হবে।

এরপরের ধাপে যন্ত্রটির রোগ নির্ণয়-সংক্রান্ত সক্ষমতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

২০২৮ সালের মধ্যে আরও বিভিন্ন শহরে সম্প্রসারণের পাশাপাশি তৃতীয় প্রজন্মের স্ক্যানার উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে মিডজার্নির। এই সংস্করণে কাস্টম সিলিকন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা আরও উন্নত মানের ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, তখনই প্রকল্পটি সত্যিকার অর্থে ‘গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’ পৌঁছাবে এবং প্রচলিত এমআরআই প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করবে।

মিডজার্নির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৫০ হাজার স্ক্যানার স্থাপন করা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, 'ভবিষ্যতে যদি পর্যাপ্ত প্রাথমিক পর্যায়ের ইমেজিং নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিশ্বে মোট মৃত্যুর ৩০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এড়ানো সম্ভব হতে পারে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত