দেশের টাকায় তিস্তা মহাপকিল্পনা বাস্তবায়ন হবে: ত্রাণ মন্ত্রী

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এটার জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের জিওবি ফান্ড থেকে এটা করতে পারব।

এটার মেয়াদ আছে দশ বছর। দুই স্তরে কাজ হবে। সুতরাং প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও আমরা করতে পারব। তবে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশীয় যারা আছেন তাদের সঙ্গে হয়তো বহির্বিশ্বের আরও উচ্চতর যারা জ্ঞান রাখেন এই ব্যাপারে তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।

শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে নীলফামারীর ডালিয়াস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভিআইপি গ্রেস্ট হাউস অবসরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

এছাড়া নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা) ব্যারিস্টার রাজিব হাসান প্রধান, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিনসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তরাঞ্চল) ড. মোহা. সরফরাজ বান্দা, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন।

এসময় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী আরও বলেন, এখন সমস্যাটা দেখা দিয়েছে যে আমরা উজান থেকে পানি কতটুকু পাবো, সেটা কিন্তু এখনো আমাদের কাছে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ।

পানি চুক্তি ছাড়া আমাদের কাঙ্খিত পানি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বর্ষাকালে প্রচুর পানি হয়। শুকনা মৌসুমে যদি পানি আমরা না পাই তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে এটা কোন কার্যকর ভূমিকা রাখবে না। প্রধানমন্ত্রী সেই জায়গাটি অ্যাড্রেস করছেন। উনি বলছেন যে, যাতে পানির রিজার্ভার তৈরি করা যায় ডিজাইনের মধ্যে সেটাকে গুরুত্ব দিতে বলছেন উনি। যাতে বর্ষাকালে আমরা পানি ধরে রাখতে পারি।

এক মাসের মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর মহাপরিকল্পনার মূল কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, কিছু লোক দেখতেছি, তারা আবার আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যে আমরা আন্দোলন করলাম, তাদের চেহারা তো আমি একদিনও পাইনি। এখন এরা দেখছে যে কাজ রেডি হয়ে যাচ্ছে। তাই ওরা আন্দোলন করে ক্রেডিট নিতে চায়। তারা কই ছিল এতদিন। তিস্তার চরে যখন সাধারণ মানুষ নিয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দ আন্দোলন করছে তাদের তো আমরা একদিনও সাথে পাইনি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত