সকার নয়, সিয়াটলে জিতল আমেরিকান ‘ফুটবল’

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

সকার বনাম ফুটবল। শব্দগত এই দ্বৈরথ বহু পুরোনো। তবে সিয়াটেলের মাঠে যখন জন ডেনভারের বিখ্যাত ‘কান্ট্রি রোডস’ সুর বাজছিল, তখন যেন স্পষ্ট হয়ে গেল, বিশ্বমঞ্চে এবার আমেরিকান ঘরানার ফুটবলেরই জয়জয়কার। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস গড়ল তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। চোটজনিত কারণের স্বাগতিকদের নিয়মিত্য অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচেরর অনুপস্থিতি টেরই পেতে দেননি ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড রিকার্ডো পেপি।

ম্যাচের ১১তম মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় স্বাগতিকরা। পুলিসিচের পজিশনে খেলতে নামা ফোলারিন বালোগানের একটি জোরালো ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন অজি ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্গেস।

ম্যাচে শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল দুদলই, যার ফলশ্রুতিতে রেফারি ফেলিক্স জোয়ারকে চলতি আসরে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭টি হলুদ কার্ড দেখাতে হয়। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্কিন ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। সার্জিনো ডেস্টের শট হ্যারি সুটার ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ২১ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালক। এই দুই গোলের লিড ধরে রেখেই গত ৯ ম্যাচের মধ্যে নিজেদের প্রথম ‘ক্লিন শিট’ বজায় রাখে যুক্তরাষ্ট্র রক্ষণভাগ।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইউএসএ কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। “আমরা আমাদের মানসিকতা দিয়েই এই জয় ছিনিয়ে এনেছি। আজ আমি আমেরিকান না হয়েও ম্যাচ শেষে ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। মানুষের এই ভালোবাসার সাথে যুক্ত হওয়াই আমাদের লক্ষ্য ছিল।”

এমন জয়ে এখন বড় কিছুর স্বপ্নই দেখছে স্বাগতিক দলটি। তাই তো পচেত্তিনোর বার্তা, “আমাদের বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে যে আমরা জিততে পারি।”

এদিকে আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে হারানো অস্ট্রেলিয়া এই হারে খেল বড় ধাক্কা। দ্বিতীয়ার্ধে টনি পপোভিক তিনটি পরিবর্তন এনে দলকে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরালেও প্রথমার্ধের বিপর্যয় এড়াতে পারেননি। তাই ম্যাচ শেষে অজি কোচ পপোভিক অকপটে স্বীকার করেন, “ওদের মান, শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা একদম স্পষ্ট। প্রথমার্ধে আমরা ওদের সাথে টেক্কা দিতে পারিনি। প্রতিটি বলে আমরা পিছিয়ে ছিলাম এবং খুব সস্তা দুটি গোল হজম করেছি।” তবে তরুণদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রশংসা করেছেন সকারুজদের কোচ।

এই হারের পরও অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়নি। আগামী ২৬ জুন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় পেলেই নকআউটের টিকিট পাবে সকারুরা। অন্যদিকে, ফুরফুরে মেজাজে থাকা পচেত্তিনোর দল এখন থেকেই ছক কষছে শেষ বত্রিশের। গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ ইতিমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া তুরস্কের বিপক্ষে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত