'দাম কমানো উচিত, কারণ বিয়ার জীবনের জন্য অপরিহার্য'

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

বিশ্বকাপে যে জার্মান সমর্থকেরা একটু 'স্পারসামকেইট'—অর্থাৎ হিসাব করে বা সাশ্রয়ীভাবে খরচ করার অভ্যাস বজায় রাখতে চাচ্ছেন, টরন্টোর বিয়ারের চড়া দাম তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রুপ 'ই'-তে শনিবার আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানির ম্যাচের আগে, ফ্যান পার্টিতে যোগ দিতে শুক্রবার হিউস্টন হয়ে শত শত জার্মান সমর্থক টরন্টোতে এসে পৌঁছেছেন।

টরন্টোর ডাউনটাউনের পাবগুলোর (পানশালা) বাইরে জার্মান সমর্থকদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। কেউ কেউ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি স্যুটকেস হাতেই চলে এসেছেন, আবার কেউ কেউ নায়াগ্রা জলপ্রপাত ঘুরে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছেন।

জার্মান সমর্থকদের মেজাজ বেশ ফুরফুরে থাকলেও, টরন্টোর বিয়ারের দাম নিয়ে জিজ্ঞেস করতেই তারা ক্ষোভ উগরে দেন।

৪৭ বছর বয়সী ম্যাটস কাউয়ার বলেন, "আমাকে বলতেই হচ্ছে যে জার্মানির তুলনায় কানাডা এবং আমেরিকায় বিয়ারের দাম অনেক বেশি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "জার্মানিতে আমরা এক পিন্ট বিয়ারের জন্য প্রায় ৬ থেকে ৭ ডলার দিই। কিন্তু এখানে সেটার দাম ১০ থেকে ১৪ ডলার, আর স্টেডিয়ামের ভেতরে তো ১৭ ডলার! এটা সত্যিই হাস্যকর। দাম কমানো উচিত, কারণ বিয়ার জীবনের জন্য অপরিহার্য।"

টরন্টোর বায়ার্ন মিউনিখ ফ্যান ক্লাবের সভাপতি অ্যান-মেরি সিসেল জানান, বিশ্বকাপের মতো আসরে খেলা দেখতে এলে বিয়ারের দাম একটু বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক, তবে ম্যাচের টিকিটের দাম ছিল এককথায় "পাগলাটে"।

তিনি বলেন, "এই শহরে টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। আমি নিজে একটা টিকিটের জন্য ১,০০০ কানাডিয়ান ডলার (৭০৬ মার্কিন ডলার) দিয়েছি।"

জি-৭  ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কানাডায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার অন্যতম সর্বোচ্চ। মার্কিন ডলার এবং ইউরোর বিপরীতে বিনিময় হারের কারণে কানাডা তুলনামূলক কিছুটা সস্তা মনে হলেও, কর (ট্যাক্স) এবং বকশিশের (টিপস) কারণে বিলের অঙ্ক খুব দ্রুত বেড়ে যায়।

টরন্টোর বার ও রেস্তোরাঁগুলোতে কর্মীরা ১২% থেকে ২০% পর্যন্ত টিপস আশা করেন, পাশাপাশি বিলের সাথে ১৩% করও যোগ হয়।

বার্লিন থেকে আসা ৬১ বছর বয়সী হেইনার, যিনি বিশ্বকাপে জার্মানির সব ম্যাচ মাঠে বসে দেখার পরিকল্পনা করছেন, তার কাছে টরন্টোর পরিবেশ বেশ দারুণ লেগেছে।

তবে তিনি বলেন, "এখানে বিয়ারের যে দাম, তা আমাদের মিউনিখের 'অক্টোবরফেস্ট' উৎসবের দামের সমান।" তিনি জানান, সেখানে এক লিটার বিয়ারের দামের চেয়ে এখানকার দাম প্রায় ৫০% বেশি।

অবশ্য টরন্টোর পাব মালিকেরা তাদের এই দামের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। তাদের দাবি, এই দাম ইউরোপের সমপর্যায়েরই। তবে তাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বিয়ারের বিপুল চাহিদা মেটানো।

'পিন্ট পাবলিক হাউস'-এর ৪৪ বছর বয়সী মালিক সিজার মেসেন নিশ্চিত করছেন যেন ম্যাচের সময় জার্মান সমর্থকদের জন্য বিয়ারের ঘাটতি না হয়।

মেসেন বলেন, "আমাদের কাছে এই মুহূর্তে ১৬টি কেগ (বিয়ারের বড় পাত্র) একদম ঠান্ডা অবস্থায় প্রস্তুত আছে।"

তিনি হিসেব দিয়ে বলেন, "প্রতিটি কেগে ৩০ লিটার করে বিয়ার থাকে। সেই হিসেবে মোট ৫০০ লিটার বিয়ার আছে, যা দিয়ে প্রায় ১,২০০ পিন্ট হবে। আগামীকাল আমরা আরও বেশি ভিড় আশা করছি, তবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।"

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত