বিশ্বকাপে ট্রফি ধরে রাখার চাপ, এক শহর থেকে অন্য শহরে দৌড়াদৌড়ি, আর কড়া রিকভারি সেশন—এই সবকিছুর মাঝে আলবিসেলেস্তেদের পারফরম্যান্সের আসল রহস্য নাকি লুকিয়ে আছে তাদের ঘরের খাবারে। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি আর্জেন্টিনা থেকে স্পেশাল কার্গোতে করে উড়িয়ে আনা হয়েছে ৫০০ কেজির বিশাল মাংসের চালান।
আর্জেন্টাইনদের কাছে 'আসাডো' (ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ) শুধু কোনো খাবার নয়, এটা এক আবেগের নাম। ক্যাম্পে দলের বন্ডিং শক্ত করতে এই বারবিকিউর জুড়ি নেই। মাংসের তালিকায় কী কী আছে শুনবেন? লমো, ভাসিও, এনত্রানিয়া, মাতামব্রে—একদম বেছে বেছে সব সেরা কাট! যুক্তরাষ্ট্রের কড়া কাস্টমস আর স্বাস্থ্য বিভাগের হাজারো নিয়মকানুনের "অফসাইড ট্র্যাপ" গলিয়ে মাসের পর মাস পরিকল্পনা করে তবেই এই মাংস কানসাসে পৌঁছেছে।
আর্জেন্টিনা দলের অন্দরমহলের কিছু মজাদার তথ্যও ফাঁস হয়েছে এই মাংস-বিপ্লবের উসিলায়: লিওনেল মেসি নিজে নাকি বারবিকিউর গ্রিলের সামনে দাঁড়াতে একদম পছন্দ করেন না। ওনার কাজ হলো—অন্যরা যখন কষ্ট করে মাংস পোড়াবে, তিনি পাশে বসে আড্ডা দেবেন আর আয়েশ করে খাবেন।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজের আবার পছন্দ 'মিলানেসা উইথ পিউরি' (এক ধরণের মাংসের কাটলেট ও আলু ভর্তা)। গোলবারে শট ঠেকানোর এনার্জি তো এখান থেকেই আসে!
নিকোলাস ওতামেন্দিরন প্রিয় খাবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে জমিয়ে ঐতিহ্যবাহী আর্জেন্টাইন 'আসাডো' খাওয়া।
তবে একটা খটকা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে! ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল সাথে করে নিয়ে গিয়েছিল অবিশ্বাস্য ২,৬০০ কেজি মাংস! সেইবার কাপও জিতেছিল তারা। সেই তুলনায় এবার মাত্র ৫০০ কেজি?
সমালোচকরা রসিকতা করে বলতেই পারেন—"আমেরিকায় কি তবে ডায়েট চলছে, নাকি বাকি মাংস পরের রাউন্ডগুলোর জন্য ব্যাকআপ হিসেবে পরে আসবে?" অবশ্য কানসাস সিটি নিজেই তাদের চমৎকার বারবিকিউর জন্য বিখ্যাত। কিন্তু কথায় আছে না—"বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল" যাই হোক, মায়ের হাতের রান্নার কোনো বিকল্প হয়? তাই আমেরিকান বারবিকিউর খনিতেও মেসির পাতে থাকছে খাঁটি আর্জেন্টাইন গরুর মাংসই।