দৃষ্টিশক্তির বাইরের জগৎ

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ১১:২০ পিএম

মানুষের দেখার বাইরে মূলত অসীম মহাবিশ্ব, অদৃশ্য আলো, অণুজীব, কোয়ান্টাম জগৎ এবং ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি-বহির্ভূত অনেক কিছু আছে। চোখের দৃষ্টিসীমা মূলত দৃশ্যমান আলো বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় বর্ণালির একটি ছোট অংশ (৩৮০ থেকে ৭৫০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এর বাইরে মহাবিশ্বের বিশাল ও ক্ষুদ্র জগতের অনেক কিছু দৃষ্টির অগোচরে। মানুষের পক্ষে কেবল ৯,৩০০ কোটি আলোকবর্ষ ব্যাসের ‘পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব’ দেখা সম্ভব। তার বাইরে মহাবিশ্ব কতটা বিস্তৃত, সেটি আজও অজানা। এক্স-রে, গামা রশ্মি, অতিবেগুনি রশ্মি, অবলোহিত রশ্মি (ইনফ্রারেড) এবং রেডিও তরঙ্গের মতো শক্তি, প্রতিনিয়ত চারপাশ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আমরা দেখি না। আবার ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, অণু বা পরমাণুর মতো অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কিছু দেখা সম্ভব নয়। রাতের আকাশে আমরা যে অসংখ্য তারা ও গ্যালাক্সি দেখি, তা মহাবিশ্বের মোট পদার্থের মাত্র ৫%। বাকি অদৃশ্য বস্তু এবং অদৃশ্য শক্তি চোখের বাইরে। কিন্তু অনেক প্রাণী দৃষ্টিসীমার বাইরে আলট্রাভায়োলেট বা ইনফ্রারেড রশ্মি দেখতে পারে। মহাবিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ খালি চোখ বা কোনো টেলিস্কোপে সরাসরি ধরা পড়ে না। মানুষের চোখ কেবল দৃশ্যমান আলো দেখতে পারে। কিন্তু এর বাইরে আলো বা তরঙ্গের এক বিশাল জগৎ রয়েছে, যা মানুষ দেখতে পারে না। রৈখিক সময়ের কারণে মানুষ কেবল বর্তমান উপলব্ধি করে। ভবিষ্যৎ ও সুদূর অতীত মানুষের পক্ষে দেখা বা অভিজ্ঞতার বাইরে। তবে কিছু প্রাণী প্রকৃতিকে যেভাবে দেখে বা অনুভব করে, মানুষ তা পারে না। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সুইডেনের বিজ্ঞানীরা বলছেন সবকিছু দেখা মানুষের পক্ষে এ মুহূর্তে আপাতত অসম্ভব। তবে তারা চেষ্টা করেছেন, কীভাবে মানুষের দৃষ্টিশক্তিকে আরও বাড়ানো যায়। কিন্তু এর বাইরে বিজ্ঞানীদের অন্য একটি দল বলছে এটি অসম্ভব। কারণ, মানুষের দৃষ্টিশক্তি জিনগতভাবে জন্মের সময় আসে। এটা ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ প্রজাতির বৈশিষ্ট্য এবং তাকে স্থায়ী পরিবর্তন করা অসম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত