বাবার ভালোবাসা সমুদ্রের মতো গভীর

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১২:০৭ এএম

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পীর বাবা দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি আলমগীর। বাবার সঙ্গে আঁখির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এমনটা কম-বেশি সবারই জানা। নিজের আজকের অবস্থান তৈরির পেছনে  বাবাই তার মূল প্রেরণা বলে উল্লেখ করলেন আঁখি। তার ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই বাবার সান্নিধ্যে বেড়ে উঠেছি। আমার সব কাজে উৎসাহ দিলেও পড়াশোনার ব্যাপারে কঠোর ছিলেন তিনি। অভিনয়ের মানুষ হলেও বাবার ইচ্ছা ছিল আমি যেন আইনজীবী হই। কিন্তু তার সেই চাওয়াকে পূরণ করতে না পরলেও গায়িকা হিসেবে আমার জনপ্রিয়তাকে সানন্দে মেনে নিয়েছেন তিনি। আঁখি বলেন, ‘আমাদের মধ্য বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তবে প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে আমাদের মধ্যে মজার খুনসুটি হয়। কারণ আমি আর্জেন্টিনার ফ্যান, আর বাবা ব্রাজিলের। একই ঘরে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থক থাকা সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা হয় না। আমরা আনন্দ নিয়ে একসঙ্গে বসেই খেলা উপভোগ করি। আমি খুব ভাগ্যবতী, (যদিও সবাই এটাই বলে) বিধাতা আমাকে একজন সৎ, গুণী অভিনেতা, একজন অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী মানুষের ঘরে পাঠিয়েছেন। যার মানসিক শক্তি অনেক বেশি। লাভ ইউ বাবা।’

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব

দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ের সব জায়গায় সমানভাবে বিচরণ করা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব নিজেও একজন বাবা। আজকের বাবা দিবস উপলক্ষে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এই তারকা বলেন, ‘আমি নিজেও বাবার একটা অংশ। বাবার সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। আমার কাছে সবচেয়ে বড় তারকা হচ্ছে আমার বাবা। তিনি আমার আদর্শ। বাবাকে নিয়ে বলতে গেলে কথা শেষ হবে না। বাবা-ছেলের গল্প এতটাই বিস্তৃত, এতটাই ব্যাপক। বাবা আমার কাছে বটবৃক্ষ। আমার কাছে ছায়া। বাবা নেই, কিন্তু দূর থেকে ছায়া দিচ্ছেন এবং দেবেন এটা আমার বিশ্বাস।’

কথা যেন পেয়ে বসে অপূর্বকে। যেন চোখের সামনে অতীতকে দেখতে পাচ্ছেন তিনি। মুঠোফোনের এপাশ থেকেই আঁচ করা গেল। লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে এই তারকা বলতে থাকেন ‘বাবার না থাকা, বাবার হারিয়ে যাওয়া, বাবার অপূর্ণতা কখনো পূরণ করা যায় না। বাবা এমনই একজন। যার বাবা নেই তিনিই বাবার মর্ম বুঝেন। বাবার ভালোবাসা সমুদ্রের মতো গভীর। বাবার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি! বাবাকে ঘিরে কত গল্প! বাবার সঙ্গে আমার মধুর সম্পর্ক ছিল। ভাবতেই পারি না বাবা নেই। যখনই বাবার শূন্যতা অনুভব করি তখনই কষ্টের পাহাড় চেপে বসে। নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হয়। এই কষ্ট যারা বাবা হারিয়েছেন কেবল তারাই বুঝবেন। তাকে অনেক মিস করি। বাবা, যেখানেই আছো ভালো থেকো। সবসময় তোমার আশীর্বাদ চাই। তোমার মুখটা দেখতে ভীষণ ইচ্ছে করে।’

বিদ্যা সিনহা মিম

আরেক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম তার বাবা সম্পর্কে বলতে গিয়ে অনেকটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বাবা আমার সব সময় মনেই থাকে। বিয়ের পরেও বাবাকে সব সময় মিস করি। আজ বিশ্ব বাবা দিবসে দুনিয়ার সব বাবার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্মান। আর আমার বাবার জন্য আশীর্বাদ। বাবা সুস্থ থাকুক এবং অনেক বছর বেঁচে থাকুক এটাই চাওয়া। বাবার হাসিমুখ দীর্ঘকাল দেখতে চাই। সত্যি বলতে বাবাকে কতটা ভালোবাসি তা ছোট্ট পরিসরে বলে শেষ করা যাবে না।’ মিম জানান, তার যত অর্জন তার পুরো কৃতিত্ব বাবা ও মায়ের। তবে আজ যেহেতু বাবা দিবস, তাই বাবাকে নিয়েই কেবল কথা বলতে চান তিনি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাবার সমর্থন পেয়েছিলেন শতভাগ। কখনোই বাবা তার কাজকে ছোট করে দেখেননি। সবসময় বাবা মিমের কাজকে বড় করে দেখেছেন। বাবা তাকে প্রচণ্ডভাবে উৎসাহ দিয়েছেন।

মিমের কথায়, ‘বাবা আমার কাছে বিশাল এক আকাশের নাম। যে আকাশ ভরা আছে শুধু ভালোবাসা আর ভালোবাসায়। আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। মনে পড়ে, স্কুল জীবনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেও বাবার উৎসাহ ছিল। আমার বাবা এমনই। অনেক বড় মনের মানুষ। বাবা কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি আমাদের ২ বোনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত