২০১৮ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতলেও ২০২২ সালে মুকুট ধরে রাখতে পারেনি ফ্রান্স। রানার্সআপ হয়ে আসর শেষ করা ফরাসিরা এবার সেনেগালকে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপযাত্রা শুরু করেছে। শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে শক্তিমত্তার বিচারে ‘আই’ গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল ইরাকের মুখোমুখি হবেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায়। যদিও ইরাককে দুর্বল হিসেবে বিবেচনা না করে সমীহের চোখেই দেখছে ফ্রান্স।
ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মানুষ হয়তো ভাবতে পারে ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হবে, আসলে সেটা ঠিক নয়। ইরাক দল হিসেবে ভালো। তারা যোগ্যতা অর্জন করেই এই পর্যায়ে এসেছে। বলিভিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে, স্পেনের সঙ্গেও ড্র করেছে। আমরা একটি দারুণ লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছি।’
সালিবার সতীর্থ লুকাস দিগনেরও একই ভাবনা। বিশ্বকাপে টিকে থাকার জন্য মরিয়া ইরাক ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলতে পারে বলেই মনে করেন এই ডিফেন্ডার, ‘এটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ হবে। তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য খেলবে, তাই ম্যাচটি শারীরিকভাবে খুব কঠিন হবে। আমরা জানি, তারা হয়তো ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলবে এবং তাদের ফরোয়ার্ডরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার জন্যই নামবে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিওতে দিদিয়ের দেশম বলেছেন, ‘নরওয়ের বিরুদ্ধে ৭৫ মিনিট পর্যন্ত ওরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। শেষ দিকে দুটি গোল হজম করায় হারতে হয়েছে। ফলে কোনো ভাবেই ম্যাচে গা-ছাড়া মনোভাব দেখালে চলবে না।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘কেউ যেন না ভাবে যে আমরা ফ্রান্স বলে ম্যাচটা সহজ হবে। অনেক বড় দলই তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নামার আগে আত্মতুষ্টিতে ভুগছিল। ম্যাচ শেষে তারা ফলও পেয়ে গেছে। আমি চাই না আমাদের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটুক।’ ইরাকের প্রশংসা করে ফ্রান্সের কোচ বলেছেন, ‘ইরাক খুব জটিল কিছু করে না, তবে সহজ বিষয়গুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে।’
দুই দলই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। ফ্রান্স জিতলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলে হারা ইরাকের জন্য এটি কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। যদিও স্কোরলাইন যতটা স্বস্তিদায়ক, মাঠের পারফরম্যান্স ততটাও ভালো ছিল না। আফ্রিকান দলটি কয়েকবার ফরাসি রক্ষণকে চাপে ফেলে।
ফ্রান্স ও ইরাক এর আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি। আজ ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি দুই দলের ইতিহাসে প্রথম মুখোমুখি লড়াই হিসেবে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নেবে। তবে অভিজ্ঞতা ও অর্জনের বিচারে দুই দলের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স খেলছে তাদের ১৮তম বিশ্বকাপে, আর ইরাক বিশ্বকাপের মূল পর্বে এসেছে এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার অংশ নিয়ে তিনটি ম্যাচই হেরেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এখনো বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি তারা। তবে এসব পরিসংখ্যান সত্ত্বেও ইরাককে হালকাভাবে নিচ্ছে না ফ্রান্স। বরং টিকে থাকার লড়াইয়ে মরিয়া প্রতিপক্ষের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের প্রত্যাশাই করছে দলটি।
এর কারণও আছে অবশ্য। বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ২১টি বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলার পর আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে মূল পর্বে এসেছে ইরাক। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে স্পেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করাও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।