উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াল সাহসী কেপ ভার্দে

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে আরও একটি মূল্যবান পয়েন্ট পাওয়ার পর যখন কেপ ভার্দে উদযাপনে মেতেছিল, তখন সবচেয়ে বড় চমক এই ছিল না যে তারা ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র করেছে; বরং চমক ছিল এটাই যে কেপ ভার্দে দলটির চোখে-মুখে কোনো বিস্ময়ের ছাপ ছিল না। তারা যেন জানতই যে তারা এটি করতে পারে।

র‍্যাংকিংয়ে দুই দলের ব্যবধান ছিল ৫১ ধাপ। কাগজে-কলমে এটি ছিল এক নবাগত দলের সাথে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তির লড়াই। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপের এই ম্যাচে শুরু থেকেই কেপ ভার্দে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা ইতিহাস বা প্রতিপক্ষের নামের ওজনে ভয় পাওয়ার পাত্র নয়।

ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তা সাংবাদিকদের বলেন, "এই অর্জন আমাদের মতো ছোট ও বিশ্বমঞ্চে আসতে লড়াই করা দলগুলোর জন্য একটি বার্তা। একটি দেশ ছোট হতে পারে, আর্থিক সংকট থাকতে পারে, কিন্তু তাদের যদি ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং গোছানো পরিকল্পনা থাকে, তবে তারাও বড় দলগুলোর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে পারে।"

ম্যাচের শুরুতেই উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা মাঝমাঠ দখলে নেওয়ার যে ছক কষেছিলেন, তা ভেস্তে দেয় কেপ ভার্দের আক্রমণাত্মক ফুটবল। ম্যাচের প্রথম গোলটি ছিল দেখার মতো। প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে কেভিন পিনার এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক উরুগুয়ের রক্ষণপ্রাচীর ভেদ করে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।

গোল খাওয়ার পর উরুগুয়ে যেন কিছুটা অপমানিত বোধ করে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি কেপ ভার্দে। মাক্সি আরাউজোর গোলে সমতায় ফেরার পর অগাস্টিন ক্যানোবিওর দ্বিতীয় গোলে ম্যাচটি সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় উরুগুয়ে।

ভুল থেকে দারুণ প্রত্যাবর্তন

২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তটি আসে তখন, যখন উরুগুয়ের ম্যাথিয়াস অলিভেরার একটি দুর্বল ব্যাক-পাস চলে যায় ফাঁকা জায়গায়। বদলি খেলোয়াড় হেলিও ভার্দে সেই সুযোগের পুরো ফায়দা তুলে মুসলেরাকে ফাঁকি দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন খালি জালে। ২-২ সমতায় ফেরার পর কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের চোখে দেখা যায় আনন্দের অশ্রু।

শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের চিত্রই বলে দিচ্ছিল কোন দল এই ফলাফলে বেশি খুশি। উরুগুয়ের খেলোয়াড়রা যখন মাথা নিচু করে টানেলে ফিরছিলেন, তখন কেপ ভার্দের ফুটবলাররা মাঠে সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছিলেন মাথা উঁচু করে।

এটি ছিল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ, আর সেখানেই উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে তারা ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের এক নতুন অধ্যায় লিখল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত