দ্য হান্ড্রেড ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ মানেই চরম উত্তেজনা, তবে ২০২৬ সালের পুরুষ আসরের ফাইনালটি রূপ নিয়েছিল এক অবিশ্বাস্য থ্রিলারে। ট্রেন্ট রকেটসের দেওয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে নিশ্চিত জয়ের পথে থাকা ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস শেষ মুহূর্তে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। সমীকরণ যখন ৩ বলে ৩ রান, তখনই ১ রানের সেই চিরচেনা স্নায়ুচাপের রোমাঞ্চ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত লিয়াম ডসনের এক রাজকীয় ছক্কায় মেটায় ম্যানচেস্টার।
নিউজিল্যান্ডের টিম সাইফার্টের বিধ্বংসী ৩৮ বলে ৭২ রান এবং ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জস বাটলারের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ট্রেন্ট রকেটসের ১৫৮ রানের সংগ্রহকে মামুলি বানিয়ে ফেলেছিল ম্যানচেস্টার। শেষ ৯ বলে তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান, হাতে ৫টি উইকেট। ক্রিকেটপ্রেমীরা যখন ম্যানচেস্টারের সহজ জয়ের অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক তখনই নাটকের শুরু!
পাকিস্তানের গতি তারকা মোহাম্মদ আমির নিজের শেষ ওভারে (আসলে শেষ ৫ বলে) দুর্দান্ত বোলিংয়ে পর পর দুই বলে ফিরিয়ে দেন ক্রিজে থাকা বিধ্বংসী হেনরিখ ক্লাসেন ও মাইকেল ব্রেসওয়েলকে। আমিরের এই জোড়া ধাক্কার পর বল করতে আসেন বেন স্যান্ডারসন। তিনি প্রথম দুই বল ডট দিয়ে সমীকরণ এনে দাঁড় করান ৩ বলে ৩ রান! অর্থাৎ, ম্যাচ টাই করতে ট্রেন্ট রকেটসের দরকার ছিল আর মাত্র ১টি ডট বল বা ১টি উইকেট। ১ রানের ব্যবধানে ম্যাচের ভাগ্য যেকোনো দিকেই হেলে যেতে পারত।
লিয়াম ডসনের ছক্কায় জয়োল্লাস
১ রানের সেই শ্বাসরুদ্ধকর স্নায়ুচাপের মুহূর্তে স্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন লিয়াম ডসন। বোলার স্যান্ডারসন বল ছুঁড়তেই ডসন কোনো ভুল করেননি; মিড-উইকেটের ওপর দিয়ে হাঁকান একটি দুর্দান্ত ও চোখধাঁধানো ছক্কা! ছক্কাটি সীমানা পার হতেই ৫ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস।
আগের দুটি ফাইনাল হারের ক্ষত ভুলে এই ছক্কার মাধ্যমেই নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ওল্ড ট্রাফোর্ডের দলটি।
রিয়ালে দিওমান্দের অভিষেক রাঙালেন এমবাপ্পে