টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, কোথাও কোমরসমান পানি

তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার অতি ভারী বর্ষণ, নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে কোথাও গোড়ালি, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। এতে কর্মস্থলমুখী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি ঢুকে পড়েছে দোকানপাট ও বাসাবাড়িতেও।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিতে কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, ফরিদারপাড়া, চকবাজার, আগ্রাবাদ, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ নালাপাড়া ও জামালখানসহ নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই থেকে তিন দিন এ ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ভবনের নিচতলায় হাঁটুপানি জমেছে। আর বাইরের সড়কে পানি জমেছে কোমরসমান। এ কারণে তিনি কর্মস্থলে যেতে পারেননি।

পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা রহিম উদ্দীনেরও একই অভিজ্ঞতা। পানি জমে থাকায় তিনি ও তাঁর ছেলে কেউই বাসা থেকে বের হতে পারেননি।

জলমগ্ন সড়কে চলাচলের জন্য রিকশাই এখন অনেকের একমাত্র ভরসা। তবে এ সুযোগে বেড়েছে ভাড়া। ফরিদারপাড়ার বাসিন্দা আবু জাহেদ জানান, বহদ্দারহাট যেতে সাধারণত ২০ টাকা ভাড়া লাগে। কিন্তু আজ তাঁকে দিতে হয়েছে ৫০ টাকা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, সকালেই অতি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানির চাপ তৈরি হওয়ায় দ্রুত পানি নামতে পারেনি। পানি নিষ্কাশনে চসিকের কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। বৃষ্টি থামলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত