গবেষণা ও ভবিষ্যতের কম্পিউটিং নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সিএসই রিসার্চ ডে

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘সিএসই রিসার্চ ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং কম্পিউটিংয়ের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে দিনব্যাপী আলোচনা হয়। এতে অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টরা। 

গবেষণা ও গবেষকের এই মিলনমেলার আয়োজন করে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। কম্পিউটার সায়েন্সের গবেষণাকে কীভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত কর যেতে পারে এবং তা কীভাবে বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে রিসার্চ ডে’তে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এই আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা এতে বর্তমান গবেষণা ক্ষেত্র সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। সেই সাথে এই রিসার্চ ডে তাদের অ্যাকাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞদেরকে কাছ থেকে শোনার সুযোগ করে দেয়। অ্যাকাডেমিক কাজ কীভাবে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে করা যায় সেটা সম্পর্কে তারা জ্ঞানলাভ করে।

অনুষ্ঠানে ছিল বিভিন্ন বিষয়ে প্যানেল আলোচনা, বিশেষজ্ঞ সেশন এবং কর্মশালা। আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, বায়োইনফরমেটিকস, ইউজেবল সিকিউরিটি, প্রাইভেসি, কম্পিউটার ভিশন, ইমেজ প্রসেসিং, রোবোটিকস, ব্লকচেইন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন এবং আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট।

দিনের শুরুতে ইন্টার ডিসিপ্লিনারি গবেষণা নিয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কম্পিউটার সায়েন্সের টুলস ও পদ্ধতি কীভাবে জনস্বাস্থ্য, বায়োটেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে সেই বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। সেই সাথে জটিল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সহযোগিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও আলোচনায় উঠে আসে।

প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে একটি আলাদা সেশনে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষক ও ইন্ডাস্ট্রির পেশাজীবীরা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের চর্চা, ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং অ্যাকাডেমিক প্রজেক্টকে কীভাবে পোর্টফোলিওতে উল্লেখ করার মতো কাজে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে কথা বলেন। এই সেশনে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ভাবনার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

অন্যান্য সেশনে শিক্ষার্থীরা ল্যাঙ্গুয়েজ টেকনোলজি, বায়োলজিক্যাল ডেটা, স্বাস্থ্যসেবা উদ্ভাবন, মানবকেন্দ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রাইভেসি নিয়ে চলমান গবেষণা সম্পর্কে ধারণা পান।

আলোচনায় ইন্টেলিজেন্ট ভিজ্যুয়াল সিস্টেম, অটোনোমাস টেকনোলজি, সিকিউর কম্পিউটিং, ব্লকচেইন এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিষয়ও উঠে আসে।

হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন এবং আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট ট্র্যাকের অধীনে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা, গবেষণার ধারণা তৈরি করা এবং সেই ধারণা কীভাবে বাস্তব প্রকল্পে রূপ নিতে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়। 

দিনের শেষ সেশনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচক ও শিক্ষার্থীরা এই সেশনে বর্তমান গবেষণার দিক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বেস্ট থিসিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ তুলে দেন। তিনি বলেন, এমন গবেষণা করা দরকার যা সমাজে পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদান রাখে। 

দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও ইন্ডাস্ট্রি পেশাজীবীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন ড. সাদিয়া হামিদ কাজী। 

এছাড়াও ছিলেন ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের প্রফেসর এবং সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের ডিরেক্টর ড. মলয় কান্তি মৃধা; কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. স্বাক্ষর শতাব্দ; প্রফেসর ড. তাইয়েবুল হক; প্রফেসর ড. ফরিদা চৌধুরী; প্রফেসর ড. মো. সাদেক ফেরদৌস; অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন; এবং অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. ফারিগ ইউসুফ সাদেক।

ইন্ডাস্ট্রির পেশাজীবীদের মধ্যে বক্তব্য দেন গ্রামীণফোনের প্রজেক্ট ম্যানেজার হাবিব আল সাকি, টাইগারআইটি বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র সলিউশন আর্কিটেক্ট জোবায়ের হাসান এবং ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত