শেষ বড় ঘাঁটি হারানোর পথে ইউক্রেন

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:১১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় খানিকটা আড়ালে পড়ে গেছে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। সেখানেও সম্মুখ সারিতে সংঘাত চলছেই। পাশাপাশি দুই দেশই একে অপরকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুই পক্ষ জ্বালানি স্থাপনাকে তাদের লক্ষ্যবস্তু করছে। গতকাল সোমবার ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রুশদের হাতে কৌশলগত শেষ ঘাঁটি হারানোর পথে ইউক্রেন; অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে দেশটির যোদ্ধারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। শহরটি এখন তারা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে; পুরো শহরটি বর্তমানে কোনো পক্ষেরই একক নিয়ন্ত্রণে নেই এবং এটি কার্যত একটি ‘ধূসর অঞ্চলে’ পরিণত হয়েছে। কোস্ত্যন্তিনিভকা শহরটি দনবাস অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এই শহরের পতন ঘটলে রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনে ইউক্রেনীয়দের শেষ প্রধান দুটি ঘাঁটিক্রামাতোরস্ক এবং সেøাভিয়ানস্কের দিকে সরাসরি অগ্রসর হতে পারবে। এর ফলে সমগ্র দনবাস অঞ্চল দখল করার যে লক্ষ্য ক্রেমলিন নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা মস্কোর জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

বিবিসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বলেন, তারা (রুশ সেনারা) পেছনের দিক থেকে আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়ছে। শহুরে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া চরম কঠিন কাজ। মস্কোর দাবি, তাদের বাহিনী কোস্ত্যন্তিনিভকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। তবে কিয়েভ এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। শহরটি প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইউক্রেনের ১৯তম কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওলেক্সান্ডার বাকুলিন জোর দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুরা সফল হতে পারেনি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এখনো শহরের ভেতরে প্রায় ১৩০ জন রুশ সেনা অবস্থান করছে। শহরের ভেতরে যুদ্ধরত এক ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি মস্কোর দাবির মতো এতটা সংকটজনক না হলেও, ইউক্রেনীয় প্রশাসন জনসমক্ষে যা স্বীকার করছে, পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর।

তবে ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বড় সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন পর্যবেক্ষণকারী প্রকল্প ‘ডিপস্টেট’ জানিয়েছে, কোস্ত্যন্তিনিভকার পতন এখন ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’। এটি ঘটলে এই অঞ্চলে ইউক্রেনের লজিস্টিক অপারেশন আরও জটিল হবে এবং ক্রামাতোরস্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ইউক্রেনীয় সেনা জানান, তারা নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত নতুন সেনা বা শক্তিবৃদ্ধির রসদ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, তা ধরে রাখার জন্যই আমাদের পর্যাপ্ত মানুষ নেই, নতুন করে পাল্টা আক্রমণ চালানো তো দূরের কথা।

এদিকে, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রবিবার রাতভার ৬০টি বিস্ফোরকবাহী সামরিক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেন। গতকাল সোমবার মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন থেকে আসা সব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। মস্কোর বিভিন্ন সড়কে পড়ে আছে ড্রোনগুলোর ধ্বংসাবশেষ, সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে মস্কোর আকাশসীমা বন্ধ করা হচ্ছে এবং শেরেমেতিওভো, দোমোদেদোভা, ভনুকোভো এবং ঝুকোভস্কিরাজধানীর ৪টি বিমানবন্দরের কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই বিমানবন্দরগুলো ফের চালু করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত