লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ায় নতুন করে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শঙ্কার ওই কালো মেঘ সরিয়ে যুদ্ধ অবসানে প্রাথমিক সমঝোতার পর সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। গতকাল রবিবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্ট পর্যটনকেন্দ্রে এই আলোচনা শুরু হয় বলে জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনায় অংশ নিতে আগেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। আর ইরানি প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। প্রতিনিধিদলে আরও আছেনÑ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেমাতি, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিবালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক ডেপুটি আলি বাঘেরি কানি, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা এ আলোচনায় যোগ দেবেন। ইরান বৈঠকে বসার আগেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে বলেছে, আলোচনার মূল বিষয় হবে লেবানন। বৈঠক শুরুর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই ইরনা বার্তা সংস্থার শেয়ার করা এক ভিডিওতে বলেছেন, ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। বৈঠকে এটিই হবে মূল আলোচ্য বিষয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সহকারী ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনকে তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তাবায়ন করতে হবে। নয়ত তেহরান কোনো কাগুজে চুক্তি মেনে নেবে না।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে লেবাননের সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তি করার জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। গতকাল শান্তি বৈঠকের জন্য সুইজাল্যান্ডে রওনা হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বৈঠকে তিনি ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি’ হওয়ার আশা করছেন।
তবে হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে দুটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছেÑ লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে না দেওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ থাকবে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ রবিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, লেবাননে যতক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি মেনে চলা না হবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেবল যুদ্ধবিরতিই নয়, ইরানের তেল বিক্রির পথ সুগম করতে আন্তর্জাতিকভাবে ছাড় বা ওয়েভার ইস্যু না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধই থাকবে।