ফুটবল মানেই উন্মাদনা, ফুটবল মানে আবেগ। ফুটবলকে কেন্দ্র করে যুগে যুগে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য চলচ্চিত্র, নাটক ও গান। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এলে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় সুরের নতুন জোয়ার। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে জনপ্রিয় সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী অয়ন চাকলাদার নিয়ে এলেন ব্রাজিল দলকে উৎসর্গ করে একটি বিশেষ গান। ‘ব্রাজিল গোটা বিশ্ব, ব্রাজিল তোমার আমার’ (উই আর ব্রাজিল সাপোর্টার্স ফ্রম বাংলাদেশ) শিরোনামের এই গানটিতে রয়েছে মেলোডি ও হিপহপ র্যাপের এক অনন্য ফিউশন।
শৈশব থেকেই ব্রাজিলের ভক্ত অয়ন চাকলাদার। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের বিশ্বজয় এবং ১৯৯৮ সালের রানার্সআপ হওয়ার স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালে বাবার কোলে বসে ফাইনাল খেলা দেখেছিলাম। সেবার ফ্রান্সের কাছে ব্রাজিলের পরাজয় আমাকে এখনো কষ্ট দেয়। আমার পৈতৃক বাড়ি শান্তিবাগে চাচা ও চাচাতো ভাইদের কাগজের পতাকা টাঙানোর দৃশ্য দেখেই মূলত এই দলের প্রতি ভালোবাসা। কম্পিউটারে ফিফা ৯৮ ও ২০০২ গেম খেলার সময়ও ব্রাজিলই ছিল প্রথম পছন্দ।’ এবারের হেক্সামিশন ও ১৯ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি এনরিককে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী এই সংগীত পরিচালক।
গানটির পেছনের গল্প নিয়ে অয়ন জানান, ফেসবুকে ভক্ত ও শ্রোতাদের কাছ থেকে লিরিক আহ্বান করার পর দুজনের লেখা তার মন ছুঁয়ে যায়। গানটির মেলোডি অংশ লিখেছেন নতুন গীতিকার ইমন মাহমুদুল এবং হিপহপ র্যাপ অংশটি সাজিয়েছেন সুলতানা ফেরদৌসী রিমা। কণ্ঠ দিয়েছেন জুথী আঁখি, এস কে তৃষ্ণা এবং স্বয়ং অয়ন চাকলাদার।
এই গানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী জুথী আঁখি। সাধারণত মেলোডি, ফোক ও ক্লাসিক্যাল ঘরানার গান গাইলেও এই প্রথমবার তিনি কোনো গানে হিপহপ র্যাপ করেছেন। জুথী আঁখি বলেন, ‘অয়ন যখন ব্রাজিলের গানের কথা বলল, এক বাক্যে রাজি হয়ে যাই। র্যাপ গাওয়ার অভিজ্ঞতা একদম নতুন। অয়ন আমাকে কিছু টেকনিক দেখিয়ে অভয় দিয়েছিলেন। নিজের দলের প্রতি ভালোবাসা থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে গাওয়ার চেষ্টা করেছি।’
অন্যদিকে সফট ভয়েসের গায়িকা এস কে তৃষ্ণা গানটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি মনে-প্রাণে ব্রাজিলকে সাপোর্ট করি। সেখান থেকেই এই গানটি গাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে। ভীষণ শখ আর ভালোবাসা থেকে কাজটি করা। গানটি নিয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও এক্সাইটেড।’
ইতিমধ্যেই গানটি শিল্পীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অয়ন চাকলাদারের ইউটিউব চ্যানেলে অবমুক্ত হওয়ার পর শ্রোতাদের কাছ থেকে দারুণ ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বআসরে প্রিয় দলের জয়গান গাইতে গাইতে এই গানটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে আলাদা জায়গা করে নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা পুরো টিমের।