গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ কপাটিয়া পাড়া গ্রামে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ফালানি বেগম (৬৫) নামে এক বিধবা নারী। প্রায় দুই মাস আগে ঝড়ো হাওয়ায় তার মাটির ঘরের চালা উড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভাঙাচোরা ঘরেই বসবাস করছেন।
ফালানি বেগম উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কপাটিয়া পাড়া গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী। স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে খাবারের ব্যবস্থা করলেও ঘরের চালা মেরামতের সামর্থ্য তার নেই।
স্বজন আলাল উদ্দীন জানান, দুই মাস আগে ঝড়ো বাতাসে ফালানি বেগমের মাটির ঘরের চালা উড়ে যায়। এরপর থেকে বৃষ্টির পানিতে ঘরের দেয়াল ক্ষয়ে যাচ্ছে এবং যে কোনো সময় তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাভাবে তিনি ঘরটি মেরামত করতে পারছেন না।
প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় এক যুগ আগে ফালানি বেগমের স্বামী মারা যান। তার একমাত্র ছেলে আলাদা সংসার নিয়ে থাকেন এবং মায়ের খোঁজখবর নেন না। ফলে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনোমতে জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ঝড়ে ঘরের চালা উড়ে যাওয়ার পর তার দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ঘরের মেঝেতে ঘাস জন্মেছে, আর আধাভেজা অবস্থায় দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে ফালানি বেগমের। ঘরের চালা উড়ে যাওয়ার পর তার কষ্ট আরও বেড়েছে। মানুষের সহায়তায় কিছু পলিথিন দিয়ে ঘরটি ঢেকে রাখা হয়েছে, কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
অসহায় ফালানি বেগম বলেন, আমার ঘরের জন্য একটি টিন কেনারও সামর্থ্য নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে ভাত জোটে। সবাই সহযোগিতা করলে শেষ জীবনে নিজের ঘরেই থাকতে পারব। অনেক দিন ধরে চালাবিহীন ঘরে বসবাস করছি।
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। ওই নারী খুবই কষ্টে আছেন। তার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। সরকারি সহায়তায় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে বাসযোগ্য একটি ঘর দেওয়া সম্ভব হবে।
পবিত্র আশুরা ও তাজিয়া মিছিল ঘিরে ডিএমপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন