দেশে নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল ও ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্য দুটি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা হবে। গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত চারটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। চারটি প্রস্তাবের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সভায় কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন, বাণিজ্য এবং জ্বালানিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মোট ২০টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং স্থানীয়ভাবে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। সভায় মোট ২২ হাজার ৫০০ টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১০ হাজার টন স্থানীয় এবং ১২ হাজার ৫০০ টন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে।
এ ছাড়া কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সার আমদানিতে বড় বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মরক্কোর ওজিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬৩ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশের কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১৯৯ দশমিক ৯৪ কোটি টাকায় কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব সভা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসের জন্য ২ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং এবং গানভর সিঙ্গাপুর থেকে এই এলএনজি কেনা হবে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৫ দশমিক ৮২ কোটি টাকা।
এ ছাড়া সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বিভাগের ১০টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে সেবা প্রদানের জন্য ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং আহসানিয়া মিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাবের মধ্যে বান্দরবান সড়ক বিভাগের অধীনে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৫ কোটি টাকার একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে টুনা ও সমজাতীয় মাছের প্রাপ্যতা যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।