দুই দফা পিছিয়েও মরক্কোর রোমাঞ্চকর জয়

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম

বড় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শুধু আক্রমণভাগ নয়, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মানসিকতাও যেন থাকতে হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে ঠিক তেমনই এক অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো। টুর্নামেন্ট থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া হাইতির বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের সামনে দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে আফ্রিকান লায়ন্সরা। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিলের সমান পয়েন্ট হলেও গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে মরক্কো। অন্যদিকে, টানা তিন ম্যাচ হারলেও দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মরক্কোর পরিকল্পনামতো হয়নি। খেলার ১০ মিনিটেই লেনি জোসেফের এক ব্যাকহিল পাস মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর পিঠে লেগে আত্মঘাতী গোল হলে লিড নেয় হাইতি। এরপর মরক্কো আক্রমণের ধার বাড়ালেও হাইতির ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জনি প্লাসাইড প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান। ১৫ বছর জাতীয় দলে খেলার পর নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা এই কিপার একে একে রুখে দেন আইয়ুব আল কাবি ও আশরাফ হাকিমিদের নিশ্চিত সব আক্রমণ। তবে ৩৯ মিনিটে প্লাসাইড একটি ক্রস ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে ফিরতি বলে গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফেরান আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলার হাকিমি। 

মিনিটে চারেক আবারো লিডে হাইরি। ৪৩ মিনিটে উইলসন ইসিডরের দূরপাল্লার এক বুলেট গতির শটে স্তব্ধ হয়ে যায় মরক্কো। তবে এবার সমতায় ফিরতে অবশ্য সময় নেয়নি তারা; বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে সোফিয়ান আমরাবাতের পাস থেকে হাকিমির সহায়তায় মরক্কোকে ২-২ সমতায় ফেরান আগের দুই ম্যাচের ত্রাতা ইসমাইল সাইবারি। বিশ্বকাপে এটি তাঁর টানা তৃতীয় গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও মরক্কোকে লিড নিতে অপেক্ষা করতে হয় ৭৮ মিনিট পর্যন্ত। কর্নার থেকে হাইতির ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে দারুণ দক্ষতায় বল জালে পাঠান বদলি নামা সুফিয়ান রাহিমি। যদিও হাইতির খেলোয়াড়রা ফাউলের দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ জানান, তবে রেফারি গোলের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন। ম্যাচের শেষ মিনিটে ২০ বছর বয়সী তরুণ গেসিম ইয়াসিন গোল করে মরক্কোর ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের ক্ষেত্রেও হাইতির ডিফেন্ডাররা বল সাইডলাইনের বাইরে চলে গেছে ভেবে খেলা থামিয়ে দিয়েছিল, তবে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

রোমাঞ্চে ভরা এই ম্যাচটিকে ‘ক্রেজি’ আখ্যা দিয়ে মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি বলেন, "প্রচুর গোল হয়েছে এই ম্যাচে। আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পেরে আনন্দিত। হাইতি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখিয়েছে এবং আমাদের বেশ ভুগিয়েছে।" গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও দলের লক্ষ্য নিয়ে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি সরাসরি বলেন, "আমরা গ্রুপে প্রথম হতে চেয়েছিলাম। তবে মরক্কো এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমাদের এখন বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা শিরোপা জিততে পারি। এর জন্য আমাদের শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে।"

অন্যদিকে, হারের পরও নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্বিত হাইতির ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে বলেন, "আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা এখানে দয়া করে আসিনি, আমরা এই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য ছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমরা ভক্তদের কোনো পয়েন্ট উপহার দিতে পারলাম না।" 

রানার্সআপ হওয়ায় শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মরক্কো মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়নের (জাপান, নেদারল্যান্ডস অথবা সুইডেন)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত