কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই নেই পূর্ণ ব্যবহার

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম

দেশে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার নতুন মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরলেও উদ্বোধনের দিনই এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ক্যান্টিনে এখনো আগের মতো বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার চোখে পড়েনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলা কিউআরের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, নগদ লেনদেন কমিয়ে ধীরে ধীরে একটি ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলা কিউআর চালু হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। খুচরা টাকা ও বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়ার ঝামেলাও কমবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক খাতের অনেক কর্মকা-ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আসবে, যা দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিরূপণে সহায়ক হবে।

আরেক ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মেদ বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে সরকারের কর আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত উন্নত হবে। তিনি জানান, আগামী বছর দেশে একটি ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। তবে উদ্বোধনের দিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাংলা কিউআরের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোনো নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ সফল করতে হলে আগে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের কার্যক্রমে তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই যদি এর ব্যবহার দৃশ্যমান করতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো কঠিন হবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক দুই ঈদে নতুন নোট বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সক্রিয়তা দেখে মনে হয়নি প্রতিষ্ঠানটি নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগোতে চায়। একদিকে নগদ লেনদেন কমানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন নোট বিতরণে বিশেষ ব্যবস্থা ও দীর্ঘ লাইনের মাধ্যমে নগদ অর্থ ব্যবহারের সংস্কৃতিকেই উৎসাহিত করা হয়েছে। বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করতে প্রথম পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় দেড় লাখ স্মার্টফোন বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ১৬টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কিউআর কোড চলতি মাসের মধ্যেই বাংলা কিউআরের আওতায় একীভূত করা হবে।

তবে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়াতে লেনদেনে কোনো সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এ ধরনের সীমাহীন লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন কোনো ব্যবস্থা এখনো ঘোষণা না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডিজিটাল লেনদেনসংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে ৮১ হাজার ৪২৩টি। এসব ঘটনায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা।  বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্যাশলেস স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। কিউআরভিত্তিক লেনদেনে মার্চেন্ট ও গ্রাহক উভয়েরই ঝামেলা কমবে। তবে ডিজিটাল ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত