বিশ্বজুড়ে অবৈধ মাদকের বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। কোকেন উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, একই সঙ্গে মেথামফেটামিন জব্দের ঘটনাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে, হেরোইনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেই শূন্যস্থান দখল করছে নতুন ধরনের আরও শক্তিশালী কৃত্রিম মাদক।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ড্রাগ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় চার হাজার একশ মেট্রিক টন বিশুদ্ধ কোকেন উৎপাদিত হয়েছে, যা এক দশকের ব্যবধানে প্রায় চার গুণ বেড়েছে। একই সময়ে মেথামফেটামিন উৎপাদনও বছরে গড়ে প্রায় তেরো শতাংশ হারে বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক মনিকা জুমা বলেন, বাজারে নজিরবিহীন হারে নতুন ধরনের মাদক আসছে, যার অনেকগুলো আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও বিপজ্জনক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে তালেবান আফিম চাষ নিষিদ্ধ করার পর হেরোইনের বৈশ্বিক সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফেন্টানিল ও নাইটাজিনের মতো নতুন কৃত্রিম ওপিওয়েডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
এছাড়া উত্তর আমেরিকায় ফেন্টানিল প্রায় পুরোপুরি হেরোইনের জায়গা দখল করেছে। অন্যদিকে ইউরোপ, ওশেনিয়া ও আফ্রিকায় নতুন মনঃপ্রভাবিত কৃত্রিম ওপিওয়েডের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু কোকেনের সরবরাহই নয়, এর ব্যবহারও বাড়ছে। আগে যেখানে কোকেন মূলত রাতের বিনোদনকেন্দ্রিক পরিবেশে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা দৈনন্দিন সামাজিক পরিসরেও ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ‘ক্র্যাক’ কোকেনের ব্যবহার বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে হেরোইনের পরিবর্তে ক্র্যাক কোকেন ব্যবহার শুরু হয়েছে।
চিকিৎসাসেবার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপে দুই হাজার পনেরো সাল থেকে ক্র্যাক কোকেন ব্যবহারের প্রবণতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।