নাটোরের বড়াইগ্রামে সরকারি হাসপাতালে আয়া পদে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে প্রতিবন্ধীর স্ত্রীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে খাইরুল ইসলাম (৪২) ও গুলজার হোসেন (৫০) নামে দুই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতারক খাইরুল ইসলাম উপজেলার জালোড়া গ্রামের হেকিম শাহজাহান আলীর ছেলে এবং গুলজার হোসেন জোনাইল ইউনিয়নের দ্বারিকুশী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নিগার আলীর ছেলে।
এদিকে আত্নসাৎ করা অর্থ উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী আরজিনা বেগম। শুক্রবার (২৬ জুন) উপজেলার লক্ষ্মীকোল বাজারের একটি রেস্তোরায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলন ও থানা সুত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার নগর গ্রামের প্রতিবন্ধী আব্দুল খালেকের স্ত্রী আরজিনা খাতুনকে (৩৫) সরকারি হাসপাতালে আয়া পদে চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেন অভিযুক্তরা। চাকরি বাবদ মোট ৬ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান তারা। পরে নিজের দুই ভরি স্বর্ণের গহনা, ছাগল মুরগী বিক্রি করে এবং যৎসামান্য কৃষি জমি বন্ধক রেখে তিনি তাদের চাহিদামতো টাকা পরিশোধ করেন।
কিন্তু দুই বছরেও চাকরি দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে টাকা ফেরৎ চাইলে তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে গ্রাম্য সালিশে লোকজনের উপস্থিতিতে তারা টাকা ফেরৎ দিতে অস্বীকৃতি জানান তারা। বর্তমানে তাদের কাছে টাকা চাইলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন তারা।
এ সময় ভূক্তভোগী আরজিনা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী ও মেয়ে দুজনেই প্রতিবন্ধী। চাকরির আশায় সব বিক্রি করে টাকা দিয়ে এখন আমি খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমি আমার টাকাগুলো উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে করজোড়ে মিনতি করছি।
এ ব্যাপারে একাধিকবার কল দিলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় খাইরুল ইসলামের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে গুলজার হোসেন বলেন, অসহায় ভেবে তাকে চাকরি দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু নানা কারণে তার চাকরী হয়নি। তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইতালিতে ৩ বাংলাদেশি খুন: নোয়াখালীতে শোকের মাতম