সিএমএসএমই খাত অর্থনীতির মেরুদণ্ড, প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের পাশে রূপালী ব্যাংক

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) খাতের অবদান দিন দিন বাড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে এ খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশ্ব সিএমএসএমই দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের অর্থনীতি ও সিএমএসএমই খাতের বর্তমান অবস্থা, রূপালী ব্যাংকের উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

প্রশ্ন: দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাত কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: সিএমএসএমই খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ। শিল্প খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাতে গড়ে উঠেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য কমানো এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে সিএমএসএমই খাতের বিকল্প নেই।

প্রশ্ন: সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য রূপালী ব্যাংক কী করছে?
উত্তর: রূপালী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে সিএমএসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এ খাতের জন্য আমাদের পৃথক বিভাগ রয়েছে। আমরা জামানতবিহীন ঋণ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ক্লাস্টার ফাইন্যান্স, স্টার্টআপ ফান্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করে থাকি। ২০২৬ সালে আমাদের সিএমএসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের ১৮ জুন পর্যন্ত ৯২৬ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

প্রশ্ন: বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সিএমএসএমই খাতের জন্য কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন?
উত্তর: ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি। জামানতের বাধ্যবাধকতা কমানো, যৌক্তিক সুদে ঋণ দেওয়া এবং কিস্তি পরিশোধে কিছুটা নমনীয়তা রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল লেনদেন এবং বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা বাড়াতে হবে। এতে তারা আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবেন।

প্রশ্ন: নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ কোনো উদ্যোগ আছে কি?
উত্তর: নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিই। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জামানত সুবিধায় শিথিলতা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন ব্যবসা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পে অর্থায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে পরামর্শমূলক সহায়তাও দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: বিশ্ব সিএমএসএমই দিবসে আপনার বার্তা কী?
উত্তর: টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সিএমএসএমই খাতের বিকল্প নেই। তাই উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে সরকার, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। রূপালী ব্যাংক সবসময় উদ্যোক্তাদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত