ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম!

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ওই তালিকার দুটি স্থানে তার মেয়ের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হলেও সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, তড়িঘড়ি করে তালিকা জমা দেওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সচিবালয় থেকে অনুমোদিত অনুদানসংক্রান্ত একটি চিঠির অনুলিপি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার হতে থাকে। এরপর তালিকার কয়েকটি নাম ও উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জনের মধ্যে অনুদান হিসেবে দেওয়ার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তালিকায় প্রত্যেক উপকারভোগীর নাম, পিতার নাম, ঠিকানা এবং অনুদানের পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে।

তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামে দুজনের নাম রয়েছে। একটি ক্ষেত্রে পিতার নাম লেখা হয়েছে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যটিতে ‘মো. আতাউর’। উভয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের উল্লেখ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, এই দুটি নাম সংসদ সদস্যের মেয়ের। এছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জন সংসদ সদস্যের জন্মস্থান হবখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জন তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা লাহুড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নড়াইল জেলা পরিষদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ভাইরাল হওয়া তালিকাটি সচিবালয়ে জমা দেওয়া তালিকাই। তার ভাষ্য, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার ঐচ্ছিক তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময় তিনি নড়াইলে ছিলেন না। তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) দ্রুত একটি তালিকা জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করতে বলেন। পরে অফিস থেকে দ্রুত তালিকা জমা দেওয়ার তাগিদ থাকায় পরিচিত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে একটি তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তার স্বাক্ষর করা প্যাড ব্যক্তিগত সহকারীর কাছে থাকায় সেই তালিকাই জমা দেওয়া হয়েছিল। পরিচিত এলাকা থেকে নাম নেওয়ার কারণে সেখানে তার পরিবার বা পরিচিতজনের নামও চলে এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, অনুদানের অর্থ অনুমোদিত হয়েছে এ বিষয়েও তিনি আগে অবগত ছিলেন না। ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ভাইরাল হওয়া তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণের ইচ্ছা তার নেই এবং তিনি ভিন্ন একটি তালিকা দিতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিজের সন্তানের নামে অনুদান নেওয়ার কোনো প্রয়োজন তার নেই।

এদিকে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি. এম. রাহসিন কবির জানান, সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের সঙ্গে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই সচিবালয় থেকে অনুদান অনুমোদিত হয়েছে। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের নামে অনুমোদন এসেছে, অনুদান তাদেরকেই দিতে হবে। তালিকার বাইরে নতুন কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। তালিকা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সেটি সচিবালয় থেকেই সংশোধন করে আনতে হবে বলে তিনি জানান।

ভাইরাল হওয়া তালিকাটি নিয়ে শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত