প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের এ যুগেও গুমানি নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি একটি সেতু। প্রায় চার দশক ধরে নাটোরের গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার সীমান্তবর্তী গুমানি নদীর ওপর একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু আজও সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে।
চলনবিলের বুক চিরে বয়ে যাওয়া গুমানি নদীর কাছিকাটা দাসপাড়া নিশিবাড়ি ঘাট থেকে বিলব্যাসপুর পর্যন্ত অংশটি তিন উপজেলার সাতটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগ পথ। তাড়াশ উপজেলার থল নলডাঙ্গা ও হামকুড়া, চাটমোহর উপজেলার এনায়েতপুর এবং গুরুদাসপুর উপজেলার বিলব্যাসপুর, বিলকাঠুর, রানীগ্রাম ও ইয়াসিনপুর গ্রামের বাসিন্দারা শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিন এই ঘাট ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের উদ্যোগে মাসিক ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে নিয়োজিত মাঝি ময়লাল প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একটি খেয়া নৌকার মাধ্যমে মানুষ পারাপার করান। তবে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পারাপার হয়ে ওঠে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো কিংবা কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া প্রায়ই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসলাম আলী ও দবীর উদ্দিন বলেন, একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো, কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কিংবা রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি লেগেই থাকে। একটি সেতু নির্মাণ হলে আমাদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে।
বিলব্যাসপুর গ্রামের সালাম সরকার বলেন, গুমানি নদী যেন আমাদের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু দুই পাড় নয়, তিন উপজেলার মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। কৃষি, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী বলেন, বিলব্যাসপুর ও রানীগ্রাম মৌজার মধ্যবর্তী আত্রাই নদীর ওপর রাবারড্যাম নির্মাণ প্রকল্প বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, কাছিকাটা নিশিবাড়ি ঘাট থেকে বিলব্যাসপুর পর্যন্ত গুমানি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে, সেখানে সেতুর পাশাপাশি একটি রাবারড্যাম নির্মাণ করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধাও নিশ্চিত হবে। এতে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
তিনি আরও জানান, বৃহত্তর জনস্বার্থ বিবেচনায় আত্রাই নদীতে রাবারড্যাম নির্মাণের প্রস্তাব এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রকল্পটি বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, গুমানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। গুরুদাসপুর, তাড়াশ ও চাটমোহরের সাত গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই খেয়াঘাট ব্যবহার করেন। রাবারড্যাম প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেতু নির্মাণের পথও সুগম হবে এবং মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান।