মুরাদনগন ডি আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী সংকট

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয় মুরাদনগর দূর্গারাম (ডি.আর) সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভয়াবহ শিক্ষক ও কর্মচারী সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  এক সময় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় থাকা এই বিদ্যালয়টি এখন নানা সংকটে ধুঁকছে, দিন দিন হারাচ্ছে তার ঐতিহ্য। প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, বিজ্ঞান শিক্ষকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকার কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষকদের সিলেবাস শেষ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি ১৯৮৭ সালে জাতীয়করণ হয়। ১৭টি অনুমোদিত শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। এছাড়া গণিত বিষয়ে দুটি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। ইংরেজি, ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়েও দুটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন করে শিক্ষক। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক না থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের অনেককে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।

শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, বিদ্যালয়টিতে কর্মচারীর ৫টি পদের মধ্যে ১টি পূর্ণ থাকলেও অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, ঝাড়–দার ও নাইট গার্ডের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ, সব ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। অস্থায়ীভাবে কিছু কর্মচারী দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের জানালার থাই গ্লাসসহ মূল্যবান সামগ্রী প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সম্পদ রক্ষাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে আগের মতো ভালো ফলাফলও করতে পারছে না বিদ্যালয়টি। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে প্রাইভেট কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে শূন্য পদ দ্রুত পূরণে দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, শিক্ষক ও জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ও জনবলের সংকট রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত