সিদ্ধান্ত হয়নি হাদি হল নিয়ে, ওয়াকআউট সাদিক-ফরহাদদের

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

শেখ মুজিব ও শেখ পরিবারের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তন না করায় সিনেট অধিবেশনে ওয়াকআউট করেছেন ডাকসু নেতারা। 

একইসঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হল’ করার কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিন্ডিকেট থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সিনেটে পাঠানো হলেও তখন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 

এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন সিনেট সদস্য ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ ডাকসুর প্রতিনিধি দল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বারবার অনুরোধ করলেও তা রাখেননি ছাত্র প্রতিনিধিরা।

এর আগে সিনেট সদস্য ও সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে হল করার প্রস্তাব দেন। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তিনি এখানে মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করার মতো তেমন কোনো স্থায়ী নিদর্শন নেই। তাই আমি অনুরোধ করব, অন্তত আমাদের জাতীয় কবির নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হোক।’ তবে বিষয়টি সিন্ডিকেটের অনুমোদনের জন্য আবারও পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘সিন্ডিকেটকে বাইপাস করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। বিধি অনুযায়ী বিষয়টি আগে সিন্ডিকেটে যাবে, এরপর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হবে।’

এদিকে ওয়াকআউট শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ফ্যাসিবাদের আইকনদের প্রতি কেন এত দরদ? এজন্যই কি আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমরা জীবন দিয়েছেন।

নাম পরিবর্তন নিয়ে এত নাটক কেন, প্রশ্ন ফরহাদের

ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘নামটি কী হবে, সেটা নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি বা অনড় অবস্থান নেই। শিক্ষার্থীরা যে নাম সুপারিশ করেছে, সেটিই চূড়ান্ত—এমনও নয়। তবে আমাদের প্রধান দাবি ছিল, হলের বর্তমান নাম পরিবর্তন করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলাম।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেমন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেটের সিদ্ধান্ত ছাড়াই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একইভাবে দেশে ইতোমধ্যে আট শতাধিক স্থাপনার নাম পরিবর্তন হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়নি।

আমরা আশা করেছিলাম, সিনেটেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু তা হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, বিষয়টি আবার সিন্ডিকেটে যাবে। আমাদের কাছে এটি পুরো বিষয়টিকে অযথা দীর্ঘায়িত করার একটি নাটক বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এই নাটকের অবসান চাই।

আমরা মনে করি, জুলাই আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা যে মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে, সেখান থেকে তাদের উত্তরণের জন্যও এ ধরনের সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল। আজ আমরা সে প্রত্যাশা পূরণ হতে দেখিনি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ওয়াকআউট করেছি। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সে বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত