বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে যেভাবে টাকা-কড়িও বাড়াচ্ছেন হালান্ড

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপে চারদিকে যখন একের পর এক রোমাঞ্চকর গল্প তৈরি হচ্ছে, তখন মাঠের বাইরে আরেক নতুন বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন নরওয়েজীয় গোলমেশিন আরলিং হালান্ড। আর এই সাম্রাজ্যের নেপথ্যের কারিগর হলেন তার সুপার-এজেন্ট, ব্রাজিলের রাফায়েলা পিমেন্তা।

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে আজ ডালাসে কোত দিভোয়ারের (আইভরি কোস্ট) মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে রিও ডি জেনিরোর জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবোস্পোর্তে-কে  দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হালান্ডের ম্যাজিক, মার্কিন মুলুকে তার 'সুপারহিরো' ইমেজ এবং কোটি কোটি টাকার স্পন্সরশিপের গোপন রহস্য ফাঁস করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান নারী এজেন্ট।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হালান্ডের অনুসারী ছিল প্রায় ৪০ মিলিয়ন। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই তা ৪৫ মিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক এসেছে চীনের বাজারে।

পিমেন্তা জানান, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে তারা চীনের দর্শকদের টার্গেট করে হালান্ডের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। আর মাত্র এক-দেড় মাসের ব্যবধানে হালান্ড সেখানে ডেভিড বেকহ্যামের মতো ব্র্যান্ড আইকনকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যিনি যুগের পর যুগ ধরে চীনের বাজারের রাজা ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে এই বিশ্বকাপের আসর বসার কারণে হালান্ডের বাণিজ্যিক চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। পিমেন্তার ভাষায়:

“যুক্তরাষ্ট্র হলো বিনোদনের স্বর্গরাজ্য। এখানকার সাধারণ মানুষ ফুটবল বলতে প্রিমিয়ার লিগ বোঝে। আরলিং সেখানে খেলেন বলেই আমেরিকানদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন খাঁটি ‘সকার হিরো’। মাঠের ভেতরে তার দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স আর মাঠের বাইরের ব্যক্তিত্ব আমেরিকান স্পোর্টস হিরোদের সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে।”

হালান্ডের যখন ১৮ বছর বয়স (সালজবার্গে খেলতেন) তখন থেকেই পিমেন্তা এই তারকার ছায়াসঙ্গী। পিমেন্তা বিশ্বাস করেন, হালান্ডের এই তুমুল জনপ্রিয়তার মূল কারণ তার শতভাগ স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত রূপ, 

“সোশ্যাল মিডিয়ায় ও যা করে, তা কোনো পিআর এজেন্সির বানিয়ে দেওয়া ছক নয়, ও নিজেই তেমন। ও নিজেকে নিয়ে ট্রোল করতে ভয় পায় না। ট্রল বা সমালোচনার জবাব দেয় চরম ভদ্র কিন্তু প্রচণ্ড রসাত্মক ও আয়রনিক উপায়ে। আমরা যদি ওর ওপর জোর করে কোনো কৃত্রিম ইমেজ চাপিয়ে দিতাম, তবে তা কখনো খাটত না। এই রিয়েল ফর্মটাই দর্শক ভালোবাসে।”

রাফায়েলা পিমেন্তার সঙ্গে আর্লিং হালান্ড

চলতি বিশ্বকাপে নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের সেই বিখ্যাত 'নৌকা বাওয়ার সেলিব্রেশন' এখন বিশ্বজুড়ে এক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। পিমেন্তা জানান, সুইডেনের বিপক্ষে এক ম্যাচে প্রথম এই অদ্ভুত সেলিব্রেশন দেখার পর তারা ভাবতেও পারেননি যে এটি পুরো বিশ্বকাপে এমন ঝড় তুলবে। এখন মাঠের ভেতর হালান্ড এবং পুরো নরওয়ে দলও দর্শকদের এই ভালোবাসার প্রতিদান দিচ্ছে মাঠেই 'বেয়ে'।

বর্তমানে বিশ্বকাপের বাজারে হালান্ডের সাথে প্রায় ১০টি বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডের ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপ চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে বাডউইজার বা ভিসার মতো ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত ফুটবলের নিয়মিত স্পন্সর নয়, কিন্তু তারা শুধুমাত্র বিশ্বকাপের এই এক মাসের জন্য কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে হালান্ডের পেছনে। টুর্নামেন্ট শেষ হলেই হালান্ড যোগ দেবেন আগামী মৌসুমের দীর্ঘমেয়াদী স্পন্সরদের তালিকায়।

২ ম্যাচে ৪ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা হালান্ড যেন একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন নরওয়েকে।

পিমেন্তা এক চমৎকার উপমায় বুঝিয়ে দিলেন খেলোয়াড়দের কাছে বিশ্বকাপের গুরুত্ব কতটা আলাদা। ম্যানচেস্টার সিটির সাথে হালান্ডের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি থাকলেও বিশ্বকাপের টান সম্পূর্ণ ভিন্ন,

“ক্লাবের হয়ে খেলাটা অনেকটা বিয়ের মতো—সংসার গোছানো, নিয়মতান্ত্রিক। কিন্তু বিশ্বকাপ আসে ৪ বছর পর পর। এটি হলো সেই প্রথম প্রেমের মতো, যেখানে তীব্র উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ থাকে। খেলোয়াড়রা এখানে টাকার জন্য খেলে না, তারা দেশের হয়ে নিজের বাড়ির খাবার খেতে, নিজের ভাষায় কথা বলতে আর ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে আসে। তারা কার্যত নিজেদের ছুটি বিসর্জন দিয়ে বিনাপয়সায় খেলে, শুধু এই জাদুকরী মুহূর্তটার অংশ হতে।”

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত