পরকালে পথভ্রষ্টদের আপ্যায়নে যা থাকবে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ এএম

সম্মান ও সৌজন্যের প্রতীক আপ্যায়ন। সুস্বাদু খাবার, শীতল পানীয় ও আরামদায়ক পরিবেশের ব্যবস্থার মাধ্যমে আপ্যায়ন করাই স্বাভাবিক রীতি। কিন্তু পরকালে একদল মানুষের আপ্যায়ন হবে শাস্তির প্রতীক। তাদের আপ্যায়ন করা হবে ভয়াবহ শাস্তির মাধ্যমে। ক্ষুধা মেটাতে তাদের দেওয়া হবে জাহান্নামের জাক্কুম গাছের ফল। তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পরিবেশন করা হবে ফুটন্ত পানি। এ দৃশ্য কোনো কল্পকাহিনি নয়। এটি মহান আল্লাহর ঘোষণা। সুরা ওয়াকিয়ায় পথভ্রষ্ট ও সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য নির্ধারিত সেই মর্মান্তিক আপ্যায়নের চিত্র এমন ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে, যা মানুষের অন্তরকে নাড়া দেয় এবং আখেরাতের জবাবদিহির কথা গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব মানুষকে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই একত্র করা হবে।’ (সুরা ওয়াকিয়া ৫০) সেদিন পৃথিবীর কোনো শক্তি, সম্পদ কিংবা প্রভাব কারও কাজে আসবে না। প্রত্যেক মানুষকে নিজের আমলের হিসাব দিতে হবে এবং সবার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশিত হবে।

এরপর আল্লাহ বিশেষভাবে সম্বোধন করেছেন সেসব মানুষকে, যারা দুনিয়ায় সত্যের পথ ছেড়ে বিভ্রান্তির পথে চলেছে এবং আল্লাহর নিদর্শন ও আখেরাতকে অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, ‘তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা!’ (সুরা ওয়াকিয়া) এই সম্বোধনের মধ্যেই তাদের প্রতি কঠোর ভর্ৎসনা ও শাস্তির ঘোষণা নিহিত রয়েছে। তারা দুনিয়ায় অহংকার করেছে, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আল্লাহর নির্দেশের প্রতি উদাসীন থেকেছে। তাই পরকালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে লাঞ্ছনাকর পরিণতি।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা অবশ্যই জাক্কুম গাছ থেকে খাবে।’ (সুরা ওয়াকিয়া ৫২) জাক্কুম জাহান্নামের এমন এক ভয়ংকর বৃক্ষ, যার ফল অত্যন্ত তিক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত। এত কষ্টকর খাদ্য হওয়া সত্ত্বেও জাহান্নামবাসীদের তা খেতেই হবে। শুধু সামান্য নয়, তারা তা দিয়ে নিজেদের পেট ভরে ফেলবে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।’ (সুরা ওয়াকিয়া ৫৩) এই খাদ্য তাদের ক্ষুধা দূর করবে না, বরং আরও যন্ত্রণা ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দেবে। এটি হবে তাদের অপরাধের উপযুক্ত প্রতিদান।

জাক্কুম খাওয়ার পর তাদের তীব্র পিপাসা অনুভূত হবে। কিন্তু সেই পিপাসা নিবারণের জন্য পাবে না কোনো শীতল বা স্বস্তিদায়ক পানীয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তার ওপর পান করবে ফুটন্ত পানি।’ (সুরা ওয়াকিয়া ৫৪) সেই পানি এতটাই উত্তপ্ত হবে যে, তা তাদের মুখমণ্ডল, গলা ও অন্ত্রকে ঝলসে দেবে। তবুও তারা পান করা থেকে বিরত থাকতে পারবে না।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তা পান করবে পিপাসা-কাতর উটের মতো।’ (সুরা ওয়াকিয়া ৫৫) অর্থাৎ প্রচণ্ড পিপাসার কারণে তারা বারবার সেই ফুটন্ত পানি পান করবে, কিন্তু তাতে পিপাসা মিটবে না। বরং প্রতিটি চুমুক তাদের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দেবে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘প্রতিদান দিবসে এই হবে তাদের আপ্যায়ন।’ (সুরা ওয়াকিয়া ৫৬) এখনো তওবার দরজা খোলা। আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, তার নির্দেশ মেনে চলা এবং নেক আমল দ্বারা জীবন গঠন করাই এই ভয়াবহ পরিণতি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত