আগামীকাল ২রা জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পুথিগত বিদ্যায় নয়, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতায়ও সমৃদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হবে।
বুধবার (১ জুলাই) এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও শুভকামনা রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ, প্রশাসন এবং পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভয় বা চাপমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে।
তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এবারও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, যাতে কোনো ধরনের প্রশ্নফাঁস, নকল বা অনিয়ম ছাড়াই সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৬ লাখ ২১ হাজারের বেশি ছাত্র এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি ছাত্রী। আগের ধারাবাহিকতার মতো এবারও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় বেশি। তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা কারিকুলামকে এমনভাবে সাজানোর নির্দেশনা দিয়েছেন, যেখানে পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী টেকনিক্যাল ও প্রফেশনাল শিক্ষাকে ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এর তাত্ত্বিক শিক্ষা শুরু করা হচ্ছে, পরে ব্যবহারিক শিক্ষাও যুক্ত হবে। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ৩৬০ ডিগ্রির একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চায়। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে এবং যে বিষয়ে তাদের আগ্রহ, সেই ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস একজন শিক্ষকের ভূমিকা শুধু পাঠদান নয়; শিক্ষার্থীর সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষকের দায়িত্ব।
মাহ্দী আমিন বলেন, 'আমরা এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নৈতিক শিক্ষা থাকবে, পারিবারিক শিক্ষা থাকবে, সামাজিক মূল্যবোধ থাকবে এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কর্মদক্ষ হয়ে উঠবে। কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়া কিংবা দেশে-বিদেশে চাকরির জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন, সেগুলোও শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হবে।'
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ স্বল্প সময়ে বড় ধরনের কারিকুলাম পরিবর্তন সম্ভব নয়। আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানোর জন্যও সময় সীমিত। তবে এর পরের শিক্ষাবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।