সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কার্গো ও গম আমদানিসহ সাতটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’। এতে মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ১২২ কোটি ২১ লাখ টাকা। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি চলতি পঞ্জিকা বছরের ৩৪ ও ৩৫তম এলএনজি কার্গো আমদানি। দুটির মধ্যে একটি কেনা হবে ‘বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ এবং অন্যটি কেনা হবে যুক্তরাজ্যের ‘টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ থেকে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
বৈঠকে গম আমদানির দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জি-টু-জি-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি করা হবে। প্রতি টন ৩২২ ডলার দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে ৫০ হাজার টন গম আমদানির পৃথক আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টন ২৯৭ দশমিক ৯২ ডলার দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
বৈঠকে বিএডিসি কর্তৃক রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় কানাডা ও রাশিয়া থেকে দুটি পৃথক প্রস্তাবে ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৮০ ডলার। এর মধ্যে ‘কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানিতে ১৮৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানিতে ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
এ ছাড়া বৈঠকে ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলা সংযোগকারী সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের দুটি পৃথক প্যাকেজ কাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউপি-০১-এর কাজটি করবে ‘এমএএইচ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ১৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
আর প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউপি-০২-এর কাজটি করবে যৌথভাবে ‘আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’ ও ‘রিমি নির্মাণ লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।