ঠাকুরগাঁওয়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার নামে কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ টেলিওয়ের কমিউনিকেশন (ইডিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি (রাউটার বাডিভাইস) স্থাপন করলেও নিয়মিত ইন্টারনেট সংযোগ না দিয়েই মাসের পর মাস বিল উত্তোলন করে আসছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলায় মোট ৯৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৫৪টি বিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারনেট সেবা চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে বিল পরিশোধ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক বিদ্যালয়ে কার্যকর ইন্টারনেট সেবা না থাকলেও নিয়মিত বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, আমরা বিদ্যালয়ে সামান্য দেরি করলে শোকজ বা অনুপস্থিত দেখানো হয়। অথচ একটি প্রতিষ্ঠান সেবা না দিয়েই লাখ লাখ টাকা বিল নিচ্ছে, এটি দেখার যেন কেউ নেই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তাদের কাছেও এসেছে।
রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১২২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ২৩টি বিদ্যালয়ের বিল কর্তন করে বাকি বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিম উদ্দিন বলেন, ১৫৩টি বিদ্যালয়ের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, ৮৬টি বিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি ছিল এবং ৮৬টির বিল দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক শিক্ষক ইন্টারনেট সেবা নিয়ে অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় কোম্পানির প্রতিনিধিকে ডাকা হবে। শিক্ষকরা সেখানে সরাসরি অভিযোগ জানাবেন। ভবিষ্যতে এমন সমস্যা যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান(ভারপ্রাপ্ত) বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি ছিল, সেসব বিদ্যালয়ের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কোম্পানির সেবার মান সন্তোষজনক ছিল না। এখন থেকে সেবা যাচাই-বাছাই করেই বিল দেওয়া হবে।
এব্যাপারে টেলিওয়ের কমিউনিকেশনের স্থানীয় ম্যানেজার আব্দুল আওয়াল জানান, কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়ার ২২ মাস, কিন্তু বিল পেয়েছি ১২ মাসের। এভাবে কি একটা কোম্পানি চলতে পারে। তাই অনেক বিদ্যালয়ের তার চুরি হয়েছে, রাউডার নেই, অনেক বিদ্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এগুলোর আমরা শুরু করেছি।
এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার প্রত্যয়ন দিতে হবে। সেই প্রত্যয়নের ভিত্তিতেই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বিল পরিশোধ করবেন। প্রত্যয়ন ছাড়া কোনো বিল দেওয়া হবে না।