গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলগালা করা হলো পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার অনুমোদনহীন টপটেন জেনারেল হাসপাতাল।
বিষয়টি বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দেশ রুপান্তরের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল ইনচার্জ (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিংহ রায়।
সম্প্রতি টপটেন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিল। পাশাপাশি সেখানে নানা অনিয়মের প্রমাণও পাওয়া যায়। পরে জেলা সিভিল সার্জন হাসপাতালটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
তবে নির্দেশ জারির ১৩ দিন পরও হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, রোগী ভর্তি ও বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয় নিয়ে গতকাল বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন।
মঠবাড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল ইনচার্জ (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিংহ বলেন, আমরা গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাতে টপটেন হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ওই হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি রোগী ছিল। তাদেরকে স্থানান্তর করে, হাসপাতালটি সিলগালা করে দেই। এসময় প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীরা সঙ্গে ছিলেন।
এর আগে গত (২৩ মে) টপটেন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসাসেবা পরিচালনার তথ্য উঠে আসে।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৭ জুন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।