মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় আবারও গোলাগুলি ও ভারী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে টেকনাফ এলাকার লোকজন।
বুধবার (১ জুলাই) রাত ৯টা ৩৭ মিনিট থেকে ৯টা ৪২ মিনিটের মধ্যে পরপর চার দফা বিকট বিস্ফোরণের শব্দে টেকনাফের হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নাফ নদীসংলগ্ন জনপদের অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে আতঙ্কে।
সীমান্তের মানুষের ভাষ্য, দীর্ঘদিন তুলনামূলক শান্ত থাকার পর সীমান্তের ওপারে আবার সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, জীবিকা, মৎস্য আহরণ, নাফ নদীকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং স্থলবন্দর সীমান্ত বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সামরিক তৎপরতা ও সংঘর্ষের জেরেই সীমান্ত উপজেলা জুড়ে এ ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে সংঘর্ষের প্রকৃতি ও এর বিস্তৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তবাসীর প্রত্যাশা, পরিস্থিতি যেন আর অবনতির দিকে না যায়। কারণ অতীতের মতো দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ শুরু হলে টেকনাফের সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষকে আবারও আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও নির্ঘুম রাতের মুখোমুখি হতে হবে।
সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, 'এটি বিমান হামলা নাকি তীব্র মর্টারশেল বিস্ফোরণের শব্দ, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও শব্দের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ।'
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস, এম অনীক চৌধুরী বলেন, 'আমরাও ওপার থেকে ভেসে আসা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছি। ওপারে মিয়ানমারের মংডু ও বুচিডং এলাকায় বিমান হামলা চলছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, ভয়ের কোনো কারণ নেই।'
এ ব্যাপারে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমাদের বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।'