চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) রাজস্ব আদায়ে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে সংস্থাটি মোট ৫৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা চসিকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর আগের অর্থবছরে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪৫৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সংস্থাটির রাজস্ব আয় বেড়েছে ১০০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
চসিকের রাজস্ব বিভাগ জানায়, গৃহকরসহ আয়ের প্রায় প্রতিটি খাত থেকেই এবার বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। এ বছর গৃহকর খাত থেকে ৩৩৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩৮৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকেই আদায় হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকা। বিগত অর্থবছরে গৃহকর আদায় হয়েছিল ৩০৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। চসিকের ইতিহাসে এবারই প্রথম লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে রেকর্ড গড়ল গৃহকর খাত।
গৃহকরের পর চসিকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় এসেছে ভূমি হস্তান্তর ফি থেকে। এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ৯৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া এস্টেট শাখা থেকে ৩৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, ট্রেড লাইসেন্স ফি খাতে ৩০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, সপসাইন ফি থেকে ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং বিজ্ঞাপন কর বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার সব কটি খাতেই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল জানান, এবার রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন রেকর্ড করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বিশাল পরিমাণের রাজস্ব আয় ছাড়াও অন্যান্য খাত থেকেও রাজস্ব আয় বেড়েছে। প্রতি বছর রাজস্ব আদায়ে চসিক আগের বছরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
সিটি মেয়র ডাক্তার শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজস্ব আদায়ের জন্য আমি সবাইকে নিয়মিত মনিটরিং করেছি। আমরা রাজস্ব বিভাগকে একটা টার্গেট নির্ধারণ করে প্রতি সপ্তাহে বসে মিটিং করতাম। টার্গেট পূরণ না হলে কারণ খুঁজে তা সমাধান করতাম। এছাড়াও বন্দর থেকে বিশাল একটা অংশ রাজস্ব এসেছে। এজন্য আমি সব জায়গায় গিয়েছি। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছিল বলে এই রেকর্ড রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে যেসব অযৌক্তিক গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছিল, নাগরিকদের সুবিধার্থে সেগুলো নিয়মিত রিভিউ বোর্ডের মাধ্যমে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে জনগণও কর দিতে উৎসাহী হয়ে উঠছে।